Monday, February 4, 2019

খাবার স্যালাইন খাওয়াতে সতর্ক হোন, জেনে নিন সঠিক নিয়ম!


কৌতূহল নিয়ে দেখছি কি করে-
প্রচণ্ড গরম পরেছে, পাশের সারির সিটে বসেছিল দুইজন ছেলে, দুজনই ছাত্র;
হাফ লিটার (৫০০ মি.লি) পানির বোতলে প্রথমে এক প্যাকেট খাবার স্যালাইন ঢালল, একটু ঝাঁকি দিল, এরপর আরেক প্যাকেট স্যালাইন বের করল, সব মিলে দুই প্যাকেট স্যালাইন ঢালল ঐ হাফ লিটার পানির মধ্যেই।
জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই দুই প্যাকেট কেন ঢাললেন?
- এক প্যাকেটে অত স্বাদ পাওয়া যায় না, তাছাড়া যে গরম পড়েছে, তাতে বেশি খাওয়াই ভাল।

এরকম ভুল প্রায় লোকই করে, সবাই ভাবে, স্যালাইনই তো, কি আর হবে? কিন্তু এটা যে কত মারাত্মক ভুল, তা বেশিরভাগ লোকই জানে না!

বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি বিপদজনক!
কয়েক মাস আগের কথা, ডায়রিয়া হওয়ার পর খিঁচুনি নিয়ে এক বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।
একটু সন্দেহ হল, জিজ্ঞাসা করলাম, কি খাওয়াইছেন বাবুকে?
- কেন? স্যালাইন।
- বানাইছেন কিভাবে?
- হাফ গ্লাসের মত পানিতে এক প্যাকেট স্যালাইন গুলছি।
- নিয়ম তো হাফ লিটার বা আধা সের পানিতে স্যালাইন গুলানো। কিন্তু হাফ গ্লাস পানিতে কেন?
- ছোট বাচ্চা, অত আর স্যালাইন খেতে পারবে?
তাড়াতাড়ি বাচ্চাকে মেডিকেলে রেফার করে দিলাম। অল্প পানিতে স্যালাইন গুলানোর কারণে বেশি ঘনত্বের লবণ শরীরের ভেতরে গিয়ে লবনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে খিচুনি শুরু হয়েছে, যা খুবই মারাত্মক! কিডনি নষ্ট হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এভাবে অনেক বাচ্চা মারা যায় ডায়রিয়ার কারণে নয়, ভুলভাবে স্যালাইন বানানোর কারণে।

মনে রাখা উচিত, খাবার স্যালাইন কোন সাধারণ পানীয় নয় যে ইচ্ছেমত খাবেন। এটি ওষুধ- বমি, পাতলা পায়খানা বা গরমের ফলে প্রচন্ডরকম ঘেমে শরীর থেকে যে পানি, লবণ বের হয়ে যায়, তা পূরণ করার জন্য এটি খাওয়া হয়।
এটি নির্দিষ্ট নিয়মেই গুলতে হবে, ছোট-বড় সবার জন্য একই নিয়মে বানাতে হবে। আধা সের বা হাফ লিটার পানির মধ্যে পুরো এক প্যাকেট মিশিয়ে স্যালাইন দ্রবন প্রস্তুত করতে হবে। তবেই তা শরীরে গিয়ে কাজ করবে।
এর কম পানিতে বানালে লবনের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে কিডনির ক্ষতি করবে। বেশি পানিতে বানালে লবনের ঘনত্ব কমে গিয়ে সঠিকভাবে ঘাটতি পূরণ হবে না।
একবার স্যালাইন বানালে, তা সর্বোচ্চ বারো ঘণ্টা পর্যন্ত রাখা যায়, তবে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত রাখতেও অনেকে পরামর্শ দেন।
কখনো হাফ প্যাকেট স্যালাইন, এক গ্লাস পানি- এভাবে বানাবেন না, কিংবা পরবর্তিতে বানানোর জন্য প্যাকেটে কিছু স্যালাইন রেখেও দিবেন না। এক প্যাকেট দিয়ে একসাথে হাফ লিটারই বানাবেন।
একবার বানানোর পর, বয়স ও প্রয়োজনভেদে যতটুকু দরকার, সেখান থেকে নিয়ে সেভাবে খাবেন। শেষ হয়ে গেলে আবার হাফ লিটার পানিতে এক প্যাকেট গুলিয়ে নতুন করে বানাবেন।
ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কিডনি রোগ কিংবা হার্টের রুগীর ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে স্যালাইন খাবেন।

আর হ্যাঁ, বাজারে "টেস্টি স্যালাইন" নামক যা পাওয়া যায়, সেগুলো অবশ্যই খাওয়া যাবে না। এগুলোতে মাত্রার কোন ঠিক তো নেই-ই, এর পাশাপাশি ওষুধ প্রশাসনেরও কোন অনুমোদন নেই। বরং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনেক কোম্পানির টেস্টি স্যালাইনে স্যাকারিন ও কাপড়ের রং পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
লেখা: তারাকী হাসান।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

সাম্প্রতিক হুমকি ‘মগজ-খেকো’ অ্যামিবা!


সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা; কিন্তু সপ্তাহ না পেরোতেই মারা যাচ্ছেন আক্রান্ত মানুষটি। এ ঘটনা কেন ঘটছে—তার কোনো ধারণাই নেই কারও। এভাবেই গত ছয় মাসে ‘মগজ-খেকো’ অ্যামিবার শিকার হয়ে পাকিস্তানের করাচিতে ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আজ শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খবর রয়টার্সের।

অ্যামিবা একটি এককোষী মুক্তজীবী প্রাণী। অতি ক্ষুদ্র এককোষী প্রাণীটি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানে ‘মগজখাদক’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়ে গেছে।
‘নাইজেলরিয়া ফ্লাওয়ারি’ নামের এ অ্যামিবা দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায়। পানির মাধ্যমে নাক দিয়ে এ অ্যামিবা মস্তিষ্কে ঢুকে যায় এবং স্নায়ু ধ্বংস করে ফেলে। নদী, পুকুর, হ্রদ ও ঝরনার পানি যেখানে উষ্ণ, সেখানে এ ধরনের অ্যামিবা বাস করে। এ ছাড়া শিল্পকারখানার উষ্ণ পানি পড়ে এমন মাটি ও সুইমিংপুলেও এ ধরনের অ্যামিবার দেখা মেলে।

করাচিতে ১০ জন এ ধরনের অ্যামিবার শিকার হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা মুসা খান। 
এ অ্যামিবা মস্তিষ্কে ঢুকে পড়লে মারাত্মক কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণ থাকে হালকা মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, জ্বর ও পেটব্যথা।

এ প্রসঙ্গে মুসা খান বলেন, পাকিস্তানের অধিকাংশ চিকিৎসাকেন্দ্রকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
বিশুদ্ধ পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে মুসা খান বলেন, পানি যেন মানুষের নাকের বেশি গভীরে প্রবেশ করতে না পারে, এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। দূষিত পানিতে সাঁতার কাটা বা গোসল করার সময় এ ধরনের অ্যামিবা মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে।

বাংলাদেশে যেন এ রোগটির পাদুর্ভাব দেখা না যায় এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকুন৷ এমন লক্ষন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷ অার খেয়াল রাখুন দুষিত পানি যেন নাকের ভিতর উপরের দিকে উঠতে না পারে৷
জনসচেতনতায় শেয়ার করুন৷
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

Sunday, February 3, 2019

স্বামী-স্ত্রীর মারাত্মক এসব ভুলের কারণে সন্তান প্রতিবন্ধী হতে পারে!

প্রজন্ম

যে সকল অবস্থায় দম্পতি যৌন মিলন করলে তা থেকে উৎপন্ন সন্তান প্রতিবন্ধী হতে পারে এবং সেইসঙ্গে নিজেরও যেসব ক্ষতি হবে-

(১) রোগী ব্যক্তি মিলন করলে তার রোগ আরো বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরের ক্ষতি হবে।
(২) শরীরে জ্বর ও বেশি গরমে মিলন করলে পাগল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
(৩) স্ত্রীর ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে মিলন করলে স্বামী-স্ত্রী দুই জনেরই রোগ হতে পারে।
(৪) ভরা পেটে মিলন করলে কঠিন রোগ হতে পারে।
(৫) অন্ধকার ঘরে ক্ষুদ্র বা নোংড়া জায়গায় মিলন করলে চিরতরে স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
(৬) ভীষণ ক্ষুধার সময় মিলন করলে লিঙ্গ শিথিল হয়ে যায়।
(৭) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মিলন করলে মানসিক বিকৃতি দেখা দিতে পারে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

খালি পেটে লিচু খাওয়া যাবে না!


লাল টুকটুকে রং, রসালো মিষ্টি স্বাদ। এমন লোভনীয় লিচুই যে প্রাণঘাতী হতে পারে, তা কখনও ভেবেছিলেন কি?

মৌসুমি ফল লিচু সুস্বাদু আর বেশ মুখরোচকও। কিন্তু এই লিচুই হতে পারে মৃত্যুর কারণ। এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলেছেন, সকালে খালি পেটে লিচু খাওয়া যাবে না। খেলে বিপদ হতে পারে। এমনকি শিশুদের বেলায় এতে মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। লিচু খেতে হবে ভরা পেটে এবং পাকা লিচু। সম্প্রতি ভারতের একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, লিচুতে আছে 'মিথাইলিন সাইকোপ্রোপাইল গ্লাইসিন এমসিপিজি' নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি শরীরে ঢুকলে দেহে শর্করা উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে শরীর হয়ে পড়ে দুর্বল। একপর্যায়ে বিশেষ করে শিশুদের বেলায় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

খালি পেটে লিচু খেলে 'চমকি কি বিমারি' নামক একটি রোগ হয়। এই রোগে গত দু’বছরে বিহারের মুজফফরপুর এবং তাঁর সংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এমনটাই ঘটেছে ভারতে। এক, দু’জন নয়, লিচু খেয়ে প্রাণ হারিয়েছে কয়েকশো শিশু। লিচুর জন্য বিখ্যাত বিহারের মুজফফরপুরেই এমন কাণ্ড ঘটেছে।

১৯৯৫ সালে প্রথমবার এই রোগের কথা জানা যায়। তারপর থেকে প্রতি বছরই লিচু খেয়ে বিহারে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

২০১৪ সালে মুজফফরপুরের মেডিক্যাল কলেজে ‘চমকি কি বিমারি’-তে আক্রান্ত হয়ে ৩৫০টি শিশু ভর্তি হয়। এদের মধ্যে ১২২টি শিশুর মৃত্যু হয়।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যৌথ তদন্ত শুরু করে।

সেই তদন্ত রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো। রিপোর্টে বলা হয়েছে, খালি পেটে লিচু খাওয়ার পরে শরীরে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার কারণেই শিশুগুলির মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মৃত শিশুরা প্রত্যেকেই সকালবেলা খালিপেটে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে লিচু খেয়েছিল। পেট ভার হয়ে থাকায় তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কিছু খায়নি।

যার ফলে শরীরে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা শর্করার পরিমাণ কমে যায়। বিশেষত যে শিশুদের লিভার এবং মাংসপেশিতে গ্লাইকোজেন গ্লুকোজ ধরে রাখার ক্ষমতা কম, তারাই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়ায় শরীরে এনার্জি উৎপাদনকারী ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লুকোজের অক্সিডেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যার ফলে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে।

তবে গবেষকেরা বলেন, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ ভরা পেটে লিচু খেলে এমনটি হয় না। এ ছাড়া পাকা লিচু খেলেও তেমন কোনো ভয়ের কারণ নেই। পাকা লিচুতে উল্লেখিত রাসায়নিক উপাদান সহনীয় মাত্রায় থাকে। ভয় শুধু কাঁচা লিচু খাওয়ার বেলায় এবং সেটা খালি পেটে খেলে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

সুস্থ সন্তান, সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখতে চাইলে এসব জেনে নিন এখনই!

প্রজন্ম

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুধু নিরাপদ যৌন জীবন না, পরবর্তি প্রজন্মের সুস্থতার জন্যও প্রয়োজন। সবচে বড় কথা কয়েকটি স্বল্প খরচের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি অনেকগুলো জটিল রোগ নির্ণয় করতে পারবেন, পরবর্তি জটিলতা থেকে নিজে এবং নিজের স্ত্রী/ স্বামী, সন্তানকে মুক্ত রাখতে পারবেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিয়ের আগে যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো করা বেশি জরুরি সেগুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেয়া হল। লম্বা তালিকা দেখে আৎকে ওঠার কিছু নাই। সব সময়ই তো বেশি বেশি টেস্ট দেয়ার জন্য ডাক্তারকে গালমন্দ করেন। এবার নিজে থেকে, পরিবারের ভালোর জন্য কয়েকটা টেস্ট করান।

ইনফার্টিলিটি টেস্ট (Infertility Test):
বিয়ের পর আপনি সন্তান নিতে চান বা না চান, কিন্তু জেনে রাখতে হবে, আপনারা স্বামী স্ত্রী দুজনেই শারীরিকভাবে সন্তান জন্মদানে সক্ষম কিনা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা আছে। পুরুষদের জন্য সিমেন এনালাইসিস, মহিলাদের জন্য পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন হরমোন লেভেল কাউন্ট, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট ইত্যাদি।

ব্লাড ডিজঅর্ডার টেস্ট (Blood-disorder Test):
থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়াসহ কয়েকটি রক্তের রোগ নির্নয়ের জন্য এটি খুবই জরুরি। যেমন হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রো ফোরেসিস টেস্ট। চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হলে কোন অবস্থাতেই হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রো ফোরেসিস পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে সন্তান নেয়া উচিত না। জেনেশুনে একটি অসুস্থ বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনার অধিকার আপনার নেই।

এসটিডি টেস্ট (STD Test):
সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি যৌনবাহিত রোগ নির্নয়ের জন্য এসব পরীক্ষা করা হয়। এন্টিবায়োটিক খেয়ে আগে জীবাণুমুক্ত হন, তারপর বিয়ের তারিখ ঠিক করেন।

এইচ আইভি(HIV), হেপাটাইটিস বি(HBV) এবং হেপাটাইটিস সি(HCV) ভাইরাসের এন্টিবডি টেস্ট:
আমরা টের না পেলেও নিরব ঘাতকের মত ছড়িয়ে পড়ছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসগুলো। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মহিলা এইডস রুগি এইচআইভি ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছে তাদের বিদেশ ফেরত স্বামীর মাধ্যমে। দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের সন্তানও এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত হয় মায়ের কাছ থেকে।

টর্চ স্ক্রিনিং (TORCH Screening):
টক্সোপ্লাজমা, রুবেলা, সিএমভি, হারপেস ভাইরাস এন্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে গর্ভধারনের আগেই বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি আছে নাকি জেনে নেয়া যায়। এরকম জন্মগত ত্রুটি নিয়ে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে, তাই এই স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্বও বেশি। সরকার অবশ্য এর মধ্যেই বিনামুল্যে ৯-১৪ বছরের বাচ্চাদের বিনামুল্যে রুবেলা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করেছে।

জেনেটিক টেস্ট (Genetic Test):
ব্রেস্ট, কোলন বা ফুসফুস ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি বংশগত রোগ এই ধরনের টেস্টের মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা( Mental Health Assessment):
আমরা মানসিক রোগগুলো নিয়ে বরাবরই উদাসিন। অথচ বিয়ের পর কেবলমাত্র মানসিক রোগের কারনেই অনেকের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

বয়স ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় (Age determination and blood grouping & Rh typing):
কম বয়সে (১৮ বছর) বিয়ে হলে যেমন সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে, তেমনি বেশি বয়সে (৩৫ বছর) বিয়ে হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়া স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য ৫ বছরের বেশি না হওয়াই ভাল। এতে শারীরিক এবং মানসিক, দুই ধরনের স্বাস্থ্যই ভাল থাকে।অন্যদিকে পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের মায়ের গর্ভে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের বাচ্চা বেড়ে উঠলে, জন্মের কিছুক্ষনের মধ্যেই বাচ্চা প্রাণঘাতী সমস্যায় পরতে পারে। একটির বেশি বাচ্চা নিলে এ রোগের সম্ভাবনা বাড়ে।

এছাড়াও বিয়ের আগে রুটিন রক্ত, প্রস্রাব পরীক্ষা, বুকের এক্সরে, ইসিজি, সিরাম ক্রিয়েটিনিন করে নেয়া উচিত।
এক সময় ভ্যাক্সিন ছিল না, এখন অনেকগুলো ভ্যাক্সিন সরকারিভাবেই দেয়া হয়। এক সময় রক্ত নেয়ার আগে স্ক্রিনিং টেস্ট ছিল না, এখন স্ক্রিনিং ক্রস ম্যাচিং ছাড়া রক্ত দেয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না।

আজকে আমাদের উপরের কথাগুলো হাস্যকর, বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। এক সময় দেখা যাবে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ "কবুল" বলছে না।

অপেক্ষায় থাকলাম।
© জাহিদুর রহমান।

ভালো থাকুন | School of Awareness

স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু ভুল ধারণা ও সঠিক উত্তর!


১. ভুলঃ কোমর ব্যথা মানে কিডনি রোগ!
নির্ভুলঃ কিডনি রোগে প্রস্রাব কমে যায়, খাওয়ার রুচি কমে যায়, বমি বমি লাগে, মুখ ফুলে যায়!

২. ভুলঃ ঘন ঘন প্রস্রাব মানেই ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ!
নির্ভুলঃ ডায়াবেটিস হলে প্রথম অনুভূতি হল- এতো খেলাম, তবুও কেন শক্তি পাইনা, এছাড়া ওজন কমে যায়, মুখে দুর্গন্ধ হয়, ঘা শুকাতে চায়না!

৩. ভুলঃ ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেসার!
নির্ভুলঃ প্রেসার বাড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ পাওয়া যায় না! একটু অস্বস্তিকর অনুভুতি হয় মাত্র।

৪. ভুলঃ বুকের বামে ব্যথা মানে হার্টের রোগ!
নির্ভুলঃ হার্টের রোগে সাধারণত বুকে ব্যথা হয় না। হলেও বামে নয়তো বুকের মাঝখানে ব্যথা হয়... হার্টের সমস্যায় সাধারণত বুকের মাঝখানে চাপ চাপ অনুভূতি হয়, মনে হয় বুকের মাঝখানটা যেন কেউ শক্ত করে ধরে আছে!

৫. ভুলঃ মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়।
নির্ভুলঃ ডায়াবেটিস হরমোনাল অসুখ। অগ্ন্যাশয় ঠিকমত কাজ না করলে ডায়াবেটিস হয়। তাই মিষ্টি খাওয়ার সাথে এই রোগ হবার সম্পর্ক নেই। কিন্তু ডায়াবেটিস হয়ে গেলে মিষ্টি খেতে হয় না।

৬. ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে বেশি পানি খেলে পায়ে পানি আসে।
নির্ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে প্রোটিন কম খেয়ে, কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে পায়ে পানি আসে। তাই প্রোটিন বেশি বেশি খেতে হয়।

৭. ভুলঃ এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং করাকালীন বেবির (৬মাসের আগে পানিও খাওয়ানো যায় না একারণে) ডায়রিয়া হলে, মা স্যালাইন খেলেই বেবিরও চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
নির্ভুলঃ মা খেলেই বাচ্চার চাহিদা পূরণ হয় না... বেবিকেও স্যালাইন খাওয়াতে হয়।

৮. ভুলঃ দাঁত তুললে চোখের আর ব্রেইনের ক্ষতি হয়।
নির্ভুলঃ দাঁত তোলার সাথে চোখের আর ব্রেইনের কোনো সম্পর্ক নেই। দাঁত, চোখ, মাথার নার্ভ সাপ্লাই সম্পূর্ণ আলাদা।

৯. ভুলঃ মাস্টারবেশন করলে চোখের জ্যোতি কমে যায়!
নির্ভুলঃ ভিটামিন এ জাতীয় খাবার না খেলে চোখের জ্যোতি কমে যায়।

১০. টক/ ডিম/ দুধ খেলে ঘা দেরীতে শুকায়।
নির্ভুলঃ টক/ ডিমের সাদা অংশ/ দুধ খেলে ঘা তাড়াতাড়ি শুকায়।

১১. ভুলঃ অস্বাভাবিক আচরন, ভাংচুর, পাগলামি মানেই জ্বিন ভুতে ধরা! 
নির্ভুলঃ এটা বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, হ্যালুসিনেশন।

১২. ভুলঃ তালু কাটা, এক চোখ, কপালে চোখ, বাঘের মত ডোরাকাটা দাগ নিয়ে জন্ম গ্রহন করা বাচ্চা কিয়ামতের আলামত, আল্লাহর গজব, বাঘের বাচ্চা। 
নির্ভুলঃ মানুষের পেট থেকে বাঘের বাচ্চা হয় না আর কিয়ামতের আলামত বা গজব বাচ্চাদের উপর আসে না। এসব জিনগত রোগ বা জন্মগত রোগ।

১৩. ভুলঃ প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম এসব খেলে বাচ্চা বড় হয়ে যায়। তাই গাইনী ডাক্তার সিজার করার জন্য এগুলা প্রেসক্রাইব করে....
নির্ভুলঃ প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম না খেলে গর্ভস্থ বেবির নিউরাল টিউব ডিফেক্ট হয়।

১৪. ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে সাদাস্রাব হলে ফ্লুইড কমে যায়।
নির্ভুলঃ White discharge এবং Amniotic fluid সম্পূর্ণ আলাদা দুটো ফ্লুইড.. একটার সাথে আর একটার কোনো সম্পর্ক নেই।

১৫. বাচ্চা না হওয়া মানেই বন্ধ্যা নারী।
নির্ভুলঃ বন্ধ্যা, নারী এবং পুরুষ উভয়ই হতে পারে।

এ ধরণের আরো অনেক ধরণের গুজব বা কুসংস্কার আমাদের সমাজে প্রচলিত, যেগুলোর কোনো ভিত্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
সৌজন্যেঃ ডা. রিফফাত করিম।
সুত্র: "স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও সেবা" ফেসবুক পেজ।

ভালো থাকুন | School of Awareness

Saturday, February 2, 2019

মশার কয়েলের ব্যবহার কমান!


মশার কয়েলের ব্যবহারে সতর্ক হোন!
মশার কয়েলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় আবিষ্কৃত হয় যে, একটি শক্তিশালী মশার কয়েলে যে পরিমাণ স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে তা ১০০টি উচ্চ মাত্রার নিকোটিনের সিগারেটের সমান; এবং সম্প্রতি বাংলাদেশেই শক্তিশালী মশার কয়েল ব্যবহারের ফলে একটি বংশানুগতিক শ্বাসকষ্ট সমস্যায় আক্রান্ত পরিবারে মশার কয়েলের ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে পিতা ও শিশুপুত্রের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তবে, এই লেখার উদ্দেশ্য এই পরামর্শ দেওয়া নয় যে মশার কয়েল ব্যবহার করা ছেড়ে দিন। এর অর্থ হলো মশার কয়েলের ব্যবহার কমান। একান্ত ব্যবহার না করলেই নয় সেসব ক্ষেত্রে মশার কয়েল ব্যবহার করুন। মশা প্রতিরোধের বিকল্প পথ খুঁজুন/ বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করুন। মশারী ব্যবহার করুন। যেখানে মশারী বা অন্যান্য পদ্ধতি একেবারেই সম্ভব নয় শুধু সেখানেই মশার কয়েল ব্যবহার করুন।

কিছু বিকল্প পদ্ধতি এরূপ হতে পারে-
১. দিনের যে সময়টাতে রুমে মশা কম থাকে সেই সময়ে মশা তাড়িয়ে দিয়ে রুম মশামুক্ত করুন এবং মশা ঢোকার পথ রুদ্ধ করে দিন। শীতকালে এ কাজটা বেশ সহজ। গরমকালে দরজা ও জানালায় মশা প্রতিরোধক নেট ব্যাবহার করতে পারেন; সুবিধার জন্য নেট ফ্রেমে বসাতে পারেন তাহলে ঘরের মাঝে সুন্দরভাবে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ করতে পারবেন আর ঘুমানোর সময় তো মশারি থাকছেই।
২. রুমকে মশামুক্ত করার জন্য কাজ করার পরও যদি দু একটা মশা থেকে যায় সেগুলোকে শায়েস্তা করতে মশা মারার ব্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৩. মশা তাড়ানোর তরঙ্গ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।
৪. এর আগে আমাদের "টুকিটাকি" বিভাগে সুলভে মশা প্রতিরোধের একটি পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে, সেটা প্রয়োগ করতে পারেন। কমেন্টে সেই লেখার লিংক দেওয়া আছে।
আরো কিছু স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি বাজারে পেলে তাও প্রয়োগ করুন। তবে, এ্যারোসল ব্যবহার করবেন না; অন্য কোনো সময়ে এ্যারোসল এর ক্ষতিকর দিক ও তার বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
(সম্পাদিত)

ভালো থাকুন | School of Awareness