Sunday, February 3, 2019

সুস্থ সন্তান, সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখতে চাইলে এসব জেনে নিন এখনই!

প্রজন্ম

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুধু নিরাপদ যৌন জীবন না, পরবর্তি প্রজন্মের সুস্থতার জন্যও প্রয়োজন। সবচে বড় কথা কয়েকটি স্বল্প খরচের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি অনেকগুলো জটিল রোগ নির্ণয় করতে পারবেন, পরবর্তি জটিলতা থেকে নিজে এবং নিজের স্ত্রী/ স্বামী, সন্তানকে মুক্ত রাখতে পারবেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বিয়ের আগে যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো করা বেশি জরুরি সেগুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেয়া হল। লম্বা তালিকা দেখে আৎকে ওঠার কিছু নাই। সব সময়ই তো বেশি বেশি টেস্ট দেয়ার জন্য ডাক্তারকে গালমন্দ করেন। এবার নিজে থেকে, পরিবারের ভালোর জন্য কয়েকটা টেস্ট করান।

ইনফার্টিলিটি টেস্ট (Infertility Test):
বিয়ের পর আপনি সন্তান নিতে চান বা না চান, কিন্তু জেনে রাখতে হবে, আপনারা স্বামী স্ত্রী দুজনেই শারীরিকভাবে সন্তান জন্মদানে সক্ষম কিনা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা আছে। পুরুষদের জন্য সিমেন এনালাইসিস, মহিলাদের জন্য পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন হরমোন লেভেল কাউন্ট, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট ইত্যাদি।

ব্লাড ডিজঅর্ডার টেস্ট (Blood-disorder Test):
থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়াসহ কয়েকটি রক্তের রোগ নির্নয়ের জন্য এটি খুবই জরুরি। যেমন হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রো ফোরেসিস টেস্ট। চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে হলে কোন অবস্থাতেই হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রো ফোরেসিস পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে সন্তান নেয়া উচিত না। জেনেশুনে একটি অসুস্থ বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনার অধিকার আপনার নেই।

এসটিডি টেস্ট (STD Test):
সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি যৌনবাহিত রোগ নির্নয়ের জন্য এসব পরীক্ষা করা হয়। এন্টিবায়োটিক খেয়ে আগে জীবাণুমুক্ত হন, তারপর বিয়ের তারিখ ঠিক করেন।

এইচ আইভি(HIV), হেপাটাইটিস বি(HBV) এবং হেপাটাইটিস সি(HCV) ভাইরাসের এন্টিবডি টেস্ট:
আমরা টের না পেলেও নিরব ঘাতকের মত ছড়িয়ে পড়ছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসগুলো। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মহিলা এইডস রুগি এইচআইভি ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছে তাদের বিদেশ ফেরত স্বামীর মাধ্যমে। দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের সন্তানও এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত হয় মায়ের কাছ থেকে।

টর্চ স্ক্রিনিং (TORCH Screening):
টক্সোপ্লাজমা, রুবেলা, সিএমভি, হারপেস ভাইরাস এন্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে গর্ভধারনের আগেই বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি আছে নাকি জেনে নেয়া যায়। এরকম জন্মগত ত্রুটি নিয়ে বাচ্চা জন্ম নেয়ার পর বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে, তাই এই স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্বও বেশি। সরকার অবশ্য এর মধ্যেই বিনামুল্যে ৯-১৪ বছরের বাচ্চাদের বিনামুল্যে রুবেলা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করেছে।

জেনেটিক টেস্ট (Genetic Test):
ব্রেস্ট, কোলন বা ফুসফুস ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি বংশগত রোগ এই ধরনের টেস্টের মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা( Mental Health Assessment):
আমরা মানসিক রোগগুলো নিয়ে বরাবরই উদাসিন। অথচ বিয়ের পর কেবলমাত্র মানসিক রোগের কারনেই অনেকের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

বয়স ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় (Age determination and blood grouping & Rh typing):
কম বয়সে (১৮ বছর) বিয়ে হলে যেমন সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে, তেমনি বেশি বয়সে (৩৫ বছর) বিয়ে হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়া স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য ৫ বছরের বেশি না হওয়াই ভাল। এতে শারীরিক এবং মানসিক, দুই ধরনের স্বাস্থ্যই ভাল থাকে।অন্যদিকে পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের মায়ের গর্ভে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের বাচ্চা বেড়ে উঠলে, জন্মের কিছুক্ষনের মধ্যেই বাচ্চা প্রাণঘাতী সমস্যায় পরতে পারে। একটির বেশি বাচ্চা নিলে এ রোগের সম্ভাবনা বাড়ে।

এছাড়াও বিয়ের আগে রুটিন রক্ত, প্রস্রাব পরীক্ষা, বুকের এক্সরে, ইসিজি, সিরাম ক্রিয়েটিনিন করে নেয়া উচিত।
এক সময় ভ্যাক্সিন ছিল না, এখন অনেকগুলো ভ্যাক্সিন সরকারিভাবেই দেয়া হয়। এক সময় রক্ত নেয়ার আগে স্ক্রিনিং টেস্ট ছিল না, এখন স্ক্রিনিং ক্রস ম্যাচিং ছাড়া রক্ত দেয়ার কথা চিন্তাও করা যায় না।

আজকে আমাদের উপরের কথাগুলো হাস্যকর, বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। এক সময় দেখা যাবে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ "কবুল" বলছে না।

অপেক্ষায় থাকলাম।
© জাহিদুর রহমান।

ভালো থাকুন | School of Awareness

স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু ভুল ধারণা ও সঠিক উত্তর!


১. ভুলঃ কোমর ব্যথা মানে কিডনি রোগ!
নির্ভুলঃ কিডনি রোগে প্রস্রাব কমে যায়, খাওয়ার রুচি কমে যায়, বমি বমি লাগে, মুখ ফুলে যায়!

২. ভুলঃ ঘন ঘন প্রস্রাব মানেই ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ!
নির্ভুলঃ ডায়াবেটিস হলে প্রথম অনুভূতি হল- এতো খেলাম, তবুও কেন শক্তি পাইনা, এছাড়া ওজন কমে যায়, মুখে দুর্গন্ধ হয়, ঘা শুকাতে চায়না!

৩. ভুলঃ ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেসার!
নির্ভুলঃ প্রেসার বাড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ পাওয়া যায় না! একটু অস্বস্তিকর অনুভুতি হয় মাত্র।

৪. ভুলঃ বুকের বামে ব্যথা মানে হার্টের রোগ!
নির্ভুলঃ হার্টের রোগে সাধারণত বুকে ব্যথা হয় না। হলেও বামে নয়তো বুকের মাঝখানে ব্যথা হয়... হার্টের সমস্যায় সাধারণত বুকের মাঝখানে চাপ চাপ অনুভূতি হয়, মনে হয় বুকের মাঝখানটা যেন কেউ শক্ত করে ধরে আছে!

৫. ভুলঃ মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়।
নির্ভুলঃ ডায়াবেটিস হরমোনাল অসুখ। অগ্ন্যাশয় ঠিকমত কাজ না করলে ডায়াবেটিস হয়। তাই মিষ্টি খাওয়ার সাথে এই রোগ হবার সম্পর্ক নেই। কিন্তু ডায়াবেটিস হয়ে গেলে মিষ্টি খেতে হয় না।

৬. ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে বেশি পানি খেলে পায়ে পানি আসে।
নির্ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে প্রোটিন কম খেয়ে, কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে পায়ে পানি আসে। তাই প্রোটিন বেশি বেশি খেতে হয়।

৭. ভুলঃ এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং করাকালীন বেবির (৬মাসের আগে পানিও খাওয়ানো যায় না একারণে) ডায়রিয়া হলে, মা স্যালাইন খেলেই বেবিরও চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।
নির্ভুলঃ মা খেলেই বাচ্চার চাহিদা পূরণ হয় না... বেবিকেও স্যালাইন খাওয়াতে হয়।

৮. ভুলঃ দাঁত তুললে চোখের আর ব্রেইনের ক্ষতি হয়।
নির্ভুলঃ দাঁত তোলার সাথে চোখের আর ব্রেইনের কোনো সম্পর্ক নেই। দাঁত, চোখ, মাথার নার্ভ সাপ্লাই সম্পূর্ণ আলাদা।

৯. ভুলঃ মাস্টারবেশন করলে চোখের জ্যোতি কমে যায়!
নির্ভুলঃ ভিটামিন এ জাতীয় খাবার না খেলে চোখের জ্যোতি কমে যায়।

১০. টক/ ডিম/ দুধ খেলে ঘা দেরীতে শুকায়।
নির্ভুলঃ টক/ ডিমের সাদা অংশ/ দুধ খেলে ঘা তাড়াতাড়ি শুকায়।

১১. ভুলঃ অস্বাভাবিক আচরন, ভাংচুর, পাগলামি মানেই জ্বিন ভুতে ধরা! 
নির্ভুলঃ এটা বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, হ্যালুসিনেশন।

১২. ভুলঃ তালু কাটা, এক চোখ, কপালে চোখ, বাঘের মত ডোরাকাটা দাগ নিয়ে জন্ম গ্রহন করা বাচ্চা কিয়ামতের আলামত, আল্লাহর গজব, বাঘের বাচ্চা। 
নির্ভুলঃ মানুষের পেট থেকে বাঘের বাচ্চা হয় না আর কিয়ামতের আলামত বা গজব বাচ্চাদের উপর আসে না। এসব জিনগত রোগ বা জন্মগত রোগ।

১৩. ভুলঃ প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম এসব খেলে বাচ্চা বড় হয়ে যায়। তাই গাইনী ডাক্তার সিজার করার জন্য এগুলা প্রেসক্রাইব করে....
নির্ভুলঃ প্রেগন্যান্ট মহিলা আয়রণ, ক্যালসিয়াম না খেলে গর্ভস্থ বেবির নিউরাল টিউব ডিফেক্ট হয়।

১৪. ভুলঃ প্রেগন্যান্সিতে সাদাস্রাব হলে ফ্লুইড কমে যায়।
নির্ভুলঃ White discharge এবং Amniotic fluid সম্পূর্ণ আলাদা দুটো ফ্লুইড.. একটার সাথে আর একটার কোনো সম্পর্ক নেই।

১৫. বাচ্চা না হওয়া মানেই বন্ধ্যা নারী।
নির্ভুলঃ বন্ধ্যা, নারী এবং পুরুষ উভয়ই হতে পারে।

এ ধরণের আরো অনেক ধরণের গুজব বা কুসংস্কার আমাদের সমাজে প্রচলিত, যেগুলোর কোনো ভিত্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।
সৌজন্যেঃ ডা. রিফফাত করিম।
সুত্র: "স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও সেবা" ফেসবুক পেজ।

ভালো থাকুন | School of Awareness

Saturday, February 2, 2019

মশার কয়েলের ব্যবহার কমান!


মশার কয়েলের ব্যবহারে সতর্ক হোন!
মশার কয়েলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় আবিষ্কৃত হয় যে, একটি শক্তিশালী মশার কয়েলে যে পরিমাণ স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে তা ১০০টি উচ্চ মাত্রার নিকোটিনের সিগারেটের সমান; এবং সম্প্রতি বাংলাদেশেই শক্তিশালী মশার কয়েল ব্যবহারের ফলে একটি বংশানুগতিক শ্বাসকষ্ট সমস্যায় আক্রান্ত পরিবারে মশার কয়েলের ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে পিতা ও শিশুপুত্রের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তবে, এই লেখার উদ্দেশ্য এই পরামর্শ দেওয়া নয় যে মশার কয়েল ব্যবহার করা ছেড়ে দিন। এর অর্থ হলো মশার কয়েলের ব্যবহার কমান। একান্ত ব্যবহার না করলেই নয় সেসব ক্ষেত্রে মশার কয়েল ব্যবহার করুন। মশা প্রতিরোধের বিকল্প পথ খুঁজুন/ বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করুন। মশারী ব্যবহার করুন। যেখানে মশারী বা অন্যান্য পদ্ধতি একেবারেই সম্ভব নয় শুধু সেখানেই মশার কয়েল ব্যবহার করুন।

কিছু বিকল্প পদ্ধতি এরূপ হতে পারে-
১. দিনের যে সময়টাতে রুমে মশা কম থাকে সেই সময়ে মশা তাড়িয়ে দিয়ে রুম মশামুক্ত করুন এবং মশা ঢোকার পথ রুদ্ধ করে দিন। শীতকালে এ কাজটা বেশ সহজ। গরমকালে দরজা ও জানালায় মশা প্রতিরোধক নেট ব্যাবহার করতে পারেন; সুবিধার জন্য নেট ফ্রেমে বসাতে পারেন তাহলে ঘরের মাঝে সুন্দরভাবে পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজ করতে পারবেন আর ঘুমানোর সময় তো মশারি থাকছেই।
২. রুমকে মশামুক্ত করার জন্য কাজ করার পরও যদি দু একটা মশা থেকে যায় সেগুলোকে শায়েস্তা করতে মশা মারার ব্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৩. মশা তাড়ানোর তরঙ্গ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।
৪. এর আগে আমাদের "টুকিটাকি" বিভাগে সুলভে মশা প্রতিরোধের একটি পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে, সেটা প্রয়োগ করতে পারেন। কমেন্টে সেই লেখার লিংক দেওয়া আছে।
আরো কিছু স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি বাজারে পেলে তাও প্রয়োগ করুন। তবে, এ্যারোসল ব্যবহার করবেন না; অন্য কোনো সময়ে এ্যারোসল এর ক্ষতিকর দিক ও তার বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
(সম্পাদিত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

মাত্রাতিরিক্ত লবণ খাওয়া অবশ্যই কমাবেন, জেনে নিন এর ভয়ঙ্কর অপকারিতা!

অভ্যাস

মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ আমাদের স্বাস্থ্যের বহুবিধ মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে। সে সম্পর্কে জানার আগে প্রথমে জেনে নিই লবণ গ্রহণের স্বাভাবিক পরিমাণ কী এবং কীভাবে আমরা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করে থাকি।

সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ১গ্রাম এবং শিশুদের জন্য আরও কম লবণ গ্রহণ যথেষ্ট। কিন্তু অধিকাংশ দেশেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ৭-১০গ্রাম লবণ গ্রহণ করে থাকেন। বাংলাদেশে এই লবণ গ্রহণের পরিমাণ আরও বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে লবণ গ্রহণের গড় পরিমাণ দিনে ১৬ গ্রাম। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যদি লবণ গ্রহণের পরিমাণ অর্ধেক কমানো যায়, তাহলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে বিশ্বের প্রায় ২৫ লাখ লোকের মৃত্যু প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কিছু নমুনা:
১. রান্নায় অতিরিক্ত লবণ দেওয়া: আমরা অনেকেই রান্না করার সময় তরকারিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণ দেই এবং আমরা প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি লবণে রান্না করা তরকারি খেতে অভ্যস্ত।
২. খাবার টেবিলে লবণদানী: আমরা অনেকেই খাবার সময় রান্না করা খাবারেও অতিরিক্ত লবণ যোগ করে খেতে পছন্দ করি এবং খাবার টেবিলে ছোট লবণদানী রাখি।
৩. কাঁচা ফলমূলে লবণ যোগ করে খাওয়া: আমরা অনেকেই কাঁচা ফলমূল খেতে অভ্যস্ত এবং কাঁচা ফলমূল খাওয়ার সময় আমরা তাতে লবণ যোগ করে খাই। বিশেষ করে মেয়েরা এটা বেশি করে।
৪. বিভিন্ন প্রাঙ্গনের ছোট দোকান হতে: আমরা প্রায়ই অবসর সময়ে হাঁটাহাটি করতে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর গেট ও মাঠে ভ্রাম্যমাণ ছোট দোকান হতে আমড়া, গাজড়, শসা ইত্যাদি কিনে খাই এবং তা খাওয়ার সময় আমরা তাতে লবণ যোগ করে খাই।

এছাড়াও দেখা যায়, অনেকে খাওয়া শুরু করার আগেই জিহ্বাতে একটু লবণ দিয়ে নেন। খাবারকে সুস্বাদু করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উপাদান যেমন- কেচাপ, সয়াসস, টেস্টিং সল্ট, সালাদ বানানোর উপকরণ ব্যবহার করি; যেগুলোর মধ্যে অনেক লবণ থাকে।
লবণের কাজ খাদ্যকে পচন থেকে রক্ষা করা; এজন্য প্রক্রিয়াজাত এবং সংরক্ষিত খাবারে অধিক লবণ থাকে। বর্তমানে ব্যস্ত জীবনযাত্রার জন্য অনেকে বাজার থেকে উচ্চ লবণযুক্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার কিনে আনেন। শুঁটকি মাছ, নোনা ইলিশে প্রচুর লবণ থাকে।
সিদ্ধ ডিম খেতে গেলে অনেকে লবণ দিয়ে খাই। মোট কথা, লবণ খাওয়া নিয়ে আমরা তেমন চিন্তাই করি না। শুধু জিহ্বার স্বাদের জন্য আমরা আমাদের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনি।
চাইনিজ, ফাস্টফুড, স্যুপ, তেলে ভাজা খাবার, কাবাবসহ বিভিন্ন মজাদার খাদ্যে এত বেশি লবণ থাকে যে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর! কিছু চাইনিজ খাবারে ২০ গ্রামেরও বেশি লবণ থাকে অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণের কয়েকগুণ।

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের যেসব অঙ্গ প্রত্যাঙ্গের ক্ষতি করে: মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যাঙ্গের ক্ষতি সাধন করে থাকে; হার্ট, লিভার এবং কিডনি তার মধ্যে অন্যতম।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ হয় এবং এতে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে যা হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ মারাত্মকভাবে হাড় ক্ষয় করে থাকে।
অধিক লবণ পাকস্থলীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করে পাকস্থলী ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনি নষ্টের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি।

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে যেসব রোগ হয়: অধিক লবণ গ্রহণের ফলে আমরা যেসব রোগে ভুগে থাকি, তা হল-

উচ্চ রক্তচাপ : সারা বিশ্বে ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটি প্রধান ঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অধিক লবণ গ্রহণ। বিশ্বের যেসব জনগোষ্ঠী লবণ কম খান তাদের শতকরা ৮০ ভাগের উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের অধিক লবণ গ্রহণের ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকে। লবণ কম গ্রহণ করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। দীর্ঘদিন ধরে লবণ কম গ্রহণ করলে তা বৃদ্ধ বয়সে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। বাচ্চাদের কোনোভাবেই অধিক লবণ খেতে দেয়া যাবে না। কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি শৈশব থেকেই শুরু হয়। বিশ্বে প্রতি বছর উচ্চ রক্তচাপে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

স্ট্রোক: প্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক অক্ষমতা এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ স্ট্রোক। স্ট্রোকের জন্য উচ্চরক্তচাপ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। উচ্চ রক্তচাপের কারণে শতকরা ৬৪ ভাগের স্ট্রোক হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সব ধরনের স্ট্রোকের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওর: করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক হওয়ার প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের ফলে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে যা হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে আমাদের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লবণ কম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে, ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি কমে।

অস্টিওপোরোসিস : হাড়ের কর্মক্ষমতার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। হাড়ের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে লবণ গ্রহণের ভূমিকা আছে। অধিক লবণ গ্রহণ প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গমন বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমাদের হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয়ে হাড় পাতলা হয়ে যায় যাকে অস্টিওপোরোসিস বলে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার : অধিক লবণ গ্রহণের ফলে পাকস্থলীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইনফেকশন হতে পারে; এর ফলে পাকস্থলীর আলসার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার হয়। যে দেশের জনগোষ্ঠী বেশি লবণাক্ত খাদ্য গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতার হার অধিক থাকে।

কিডনি রোগ : উচ্চ রক্তচাপ মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস করার জন্য প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। যারা কিডনি রোগী, অধিক লবণ গ্রহণ তাদের রোগকে বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়ামের নির্গমন বাড়িয়ে দেয় সেহেতু এ ক্যালসিয়ামের কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। অধিক লবণ গ্রহণে শারীরিকভাবে স্থূল হওয়ার আশংকা বাড়ে এবং অ্যাজমার উপসর্গ বৃদ্ধি পায়।

অধিক লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার উপায়:
১. রান্নায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন; ধীরে ধীরে লবণ ব্যবহারের পরিমাপ ক্রমাগত কমিয়ে এনে কম লবণে অভ্যস্ত হোন।
২. রান্না করা খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ যোগ করে খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন।
৩. কাঁচা ফলমূলে লবণ দিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪. বিভিন্ন প্রাঙ্গনের ভ্রাম্যমাণ দোকান হতে আমড়া, গাজড়, শসা ইত্যাদিতে লবণ দিয়ে খাবেন না, আগেই বলে রাখুন লবণ ছাড়া দিতে।
৫. ফাস্টফুড, রেস্টুরেন্ট এবং ক্যান্টিনের খাবারে প্রচুর লবণ থাকে, এসব কম খান।
৬. লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৭. খাদ্য সংরক্ষণে লেবুর রস, ভিনেগার, কাঁচা রসুন, মসলা ব্যবহার করুন।
৮. খাদ্যকে সুস্বাদু করার উপাদান যেমন- কেচাপ, সয়া সস, সালাদ বানানোর উপকরণ কম ব্যবহার করুন।
৯. বড়িতে একেবারে কম লবণ দিয়ে সস, কেচাপ, আচার, সালাদ বা অন্যান্য খাদ্য তৈরি করুন।
(সম্পাদিত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি নিয়ে কিছু কথা যা জানা প্রয়োজন!

খাদ্য

ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে, আর ক্যালসিয়াম শরীরে শোষণ করে কাজে লাগাতে দরকার হয় ভিটামিন ডি। এসব আজকাল প্রায় সবাই জানে। হাড় ক্ষয় রোধ করতে বা হাড় মজবুত করতে ওষুধের দোকান থেকে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির কৌটা কিনে খাওয়াটা অনেকের কাছেই এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু আসলে বয়স হলেই কি ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি বড়ি খাওয়া উচিত?

গড়পড়তা একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৬০০ ইউনিট ভিটামিন ডি হলে চলে। রজঃনিবৃত্তির (মেনোপজ) পর নারীদের এবং সত্তরোর্ধ্ব পুরুষদের দরকার হয় একটু বেশি ক্যালসিয়াম—১২০০ মিলিগ্রাম। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরও লাগে একটু বেশি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এমনকি উন্নত পশ্চিমা বিশ্বেও নারীরা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে থাকেন।

জেনে রাখা ভালো যে ওষুধপত্র ছাড়া কীভাবে আমরা এগুলো বেশি করে পেতে পারি। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে ক্যালসিয়াম আছে। এক কাপ ননিবিহীন দুধ বা এক কাপ সয়া দুধে পাবেন ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এক কাপ টকদইয়ে থাকে আরও বেশি—৪০০ মিলিগ্রামের মতো। আধা বাটি রান্না করা সবুজ পাতাঅলা শাক খেলে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া হবে। এক গ্লাস কমলার রসে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম আছে কাঁটাযুক্ত মাছ, ব্রকলি ইত্যাদি খাবারে।

তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম বড়ি সেবন করা যাবে বটে, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম কার্বনেট বড়ি তাই খাওয়ার পরপর খাওয়া উচিত। বেশ কিছু ওষুধ অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে যেসব ওষুধ অ্যাসিডিটি কমাতে ব্যবহৃত হয়। একসঙ্গে ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম ওষুধ অন্ত্রে শোষিত হয় না, তাই বেশি মাত্রার ওষুধ খেয়ে লাভ হয় না। ক্যালসিয়াম অন্ত্রে শোষণ করতে ভিটামিন ডি লাগে, তাই ভিটামিন ডি কম থাকলে এটিসহ খেতে হবে।

এ ছাড়া সূর্যালোকে আছে প্রচুর ভিটামিন ডি। ডিমের কুসুম, লোনা পানির মাছেও আছে এ ভিটামিন। তবে যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে যেমন, তেমনি দীর্ঘদিন ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি বড়ি খাওয়ার বেলায়ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা
ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা।
সুত্র: দৈনিক "প্রথম আলো।

ভালো থাকুন | School of Awareness

Friday, February 1, 2019

অবহেলা করবেন না হার্ট অ্যাটাকের এই ৯টি লক্ষণ!

রোগব্যাধি

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক সাধারণ আর দশটি রোগের মত নয়। প্রথমে খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা দিলেও পরবর্তীতে সেটি অবহেলার কারণে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। medicinenet.com এর মতে আমেরিকায় প্রতি বছর ১.১ মিলিয়ন আমেরিকান হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এদের মধ্যে ৪,৬০,০০০ লক্ষ মানুষের হার্ট অ্যাটাক মারাত্নক পর্যায়ে হয়ে থাকে। প্রতিটি হার্ট অ্যাটাকের যে কিছু নিদিষ্ট ও সাধারণ কারণ থাকবে, তা কিন্তু নয়। webmd.com এর মতে সব সময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বুকে ব্যথা হবে, তা নয়। বুকে ব্যথা ছাড়াও কিছু লক্ষণ আছে যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

১। বুকে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হয় বুকে ব্যথা। সাধারণত বুকের মাঝখান থেকে প্রচন্ড চাপ ব্যথা অনুভূত হয়। আস্তে আস্তে সেই ব্যথা চোয়ালে অথবা বাম কাঁধ ও বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে থাকে। এই রকম ব্যথা দেখা দিলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২। শ্বাস কষ্ট ও দম ফুরিয়ে যাওয়া
যদি আপনার অ্যাজমা বা অন্য কোন সমস্যা না থাকে এবং হঠাৎ করে শ্বাস কষ্ট সমস্যা দেখা দেয় মূলত হৃদরোগ থেকে ফুসফুসে পানি জমা সহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঠান্ডা ছাড়াও শ্বাস কষ্ট এর সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া, মুখ দিয়ে নিঃ শ্বাস নেওয়াও ভবিষ্যত হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।

৩। ঘাম হওয়া
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিকস রোগীর ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ শরীর খারাপ লাগা শুরু হলে অব্যশই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

৪। কাশি
আপনার যদি দীর্ঘদিন কাশির সমস্যা থাকে, এবং তার সাথে সাদা বা গোলাপি কফ বের হয়। তবে বুঝতে হবে আপনার হার্ট ঠিকমত কাজ করছে না। ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে হ্যাঁ কাশি সবসময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নাও হতে পারে। কফের সাথে নিয়মিত রক্ত বের হলে এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

৫। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
যদি কাজের মধ্যেই আপনি প্রায়ই হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যান, তাহলে বুঝবেন হার্টের সমস্যা রয়েছে। এটি যদি কোন দুশ্চিন্তার কারণে না হয়ে থাকে তবে দ্রুত কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬। খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়া 
আপনি কি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন? কিছুক্ষণ কাজ করলে বুক ধড়ফড় করে? তবে আপনি এখনই কোন হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। বিশেষ করে মহিলাদের হার্টের সমস্যার প্রধান লক্ষণ এটি হয়ে থাকে। 

৭। মাথা ব্যথা
যখনই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, আমরা ওষুধ খেয়ে থাকি। কিন্তু জানেন কি, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হল প্রতিদিনকার প্রচন্ড মাথা ব্যথা।

৮। বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা ও ফুলে যাওয়া
আপনার বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে হাত-পায়ের গিঁট ব্যথা ও ফুলে যাওয়া সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। তবে দীর্ঘদিন হলে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরে পানি চলে আসার করণে শরীরের পানি চলে আসে , যার কারণে হাত-পায়ের গিঁট ফুলে যায়। বিশেষত অনেকক্ষণ কোথাও বসে থাকলে পায়ে পানি চলে আসে। নিয়মিত এটি ঘটলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

৯। অনিয়মিত পালস রেট
আপনি যদি অনেক বেশি নার্ভাস থাকেন বা কোথাও থেকে দৌড়ে আসেন আপনার পালস রেট উঠা নামা করতে পারে। তবে এটি যখন কোন কারণ ছাড়াই উঠা নামা করে সেটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিতভাবে যদি এই সমস্যা দেখা দেয় তবে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়াবেটিকস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগীরা উপরোক্ত কোন কারণকে অবহেলা করবেন না। উপরোক্ত যেকোন একটি কারণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

এই সাতটি উপায় মেনে চলুন, সুস্থ থাকবে কিডনী

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

কিডনি ফেইলুর বা রেনাল ফেইলুর শরীরের এক নীরব ঘাতক, প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই কেউ না কেউ এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত। তাই আমরা সকলেই কমবেশি জানি এ রোগের ভোগান্তি কতটা নির্মম; কিন্ত আমরা কি জানি কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে সহজেই এই রোগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই কিভাবে সহজেই আপনার কিডনিকে সুস্থ্য রাখা সম্ভব:

১। কর্মঠ থাকুনঃ নিয়মিত হাটা, দৌড়ানো, স্লাইকিং করা বা সাতার কাটার মতো হাল্কা ব্যায়াম করে আপনার শরীরকে কর্মঠ ও সতেজ রাখুন। কর্মঠ ও সতেজ শরীরে অন্যান্য যেকোন রোগ হবার মতো কিডনি রোগ হবার ঝুকিও খুব কম থাকে।

২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ৫০ জনই কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রনে না থাকলে কিডনি নষ্ট হবার ঝুকি আরো বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন, নিয়মিত আপনার রক্তের সুগার পরীক্ষা করিয়ে দেখুন তা স্বাভাবিক মাত্রায় আছে কিনা, না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধু তাই নয় অন্তত তিন মাস পরপর হলেও একবার আপনার কিডনি পরীক্ষা করিয়ে জেনে নিন সেটা সুস্থ্য আছে কিনা।

৩। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ অনেকেরই ধারনা যে উচ্চ রক্তচাপ শুধু ব্রেইন স্ট্রোক (stroke) আর হার্ট এটাকের (heart attack) এর ঝুকি বাড়ায়,তাদের জেনে রাখা ভালো যে কিডনি ফেইলুর হবার প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। তাই এ রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। কোন কারনে তা ১২৯/৮৯ মি,মি, এর বেশী হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত অসুধ সেবন এবং তদসংক্রান্ত উপদেশ মেনে চললেই সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

৪। পরিমিত আহার করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য ঝুকিপূর্ণ, তাই সুস্থ্য থাকতে হলে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কিডনি রোগ হবার ঝুকি অনেক কমে যায়। অন্যদিকে হোটেলের তেলমশলা যুক্ত খাবার, ফাষ্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে রোগ হবার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। মানুষের দৈনিক মাত্র ১ চা চামচ লবন খাবার প্রয়োজন আছে -খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়াও কিডনি রোগ হবার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়। তাই খাবারে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন।

৫। ধুমপান পরিহার করুনঃ অধুমপায়ীদের তুলনায় ধুমপায়ীদের কিডনি ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ গুণ বেশী। শুধু তাই নয় ধুমপানের কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পেতে শুরু করে। এভাবে ধুমপায়ী একসময় কিডনি ফেইলুর রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়।

৬। অপ্রয়োজনীয় অসুধ সেবনঃ আমাদের মাঝে অনেকেরই বাতিক রয়েছে প্রয়োজন / অপ্রয়োজনে দোকান থেকে অসুধ কিনে খাওয়া। এদের মধ্যে ব্যথার অসুধ (NSAID) রয়েছে শীর্ষ তালিকায়। জেনে রাখা ভাল যে প্রায় সব অসুধই কিডনির জন্য কমবেশি ক্ষতিকর আর এর মধ্যে ব্যথার অসুধ সবার চেয়ে এগিয়ে। নিয়ম না জেনে অপ্রয়োজনীয় অসুধ খেয়ে আপনি হয়তো মনের অজান্তেই আপনার কিডনিকে ধংস করে যাচ্ছেন -তাই যে কোন অসুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন তা আপনার ক্ষতি করবে কিনা।

৭। নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানঃ আমাদের মাঝে কেউ কেউ আছেন যাদের কিডনি রোগ হবার ঝুকি অনেক বেশি, তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত। কারো যদি ডায়াবেটিস এবং/ অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকে,ওজন বেশী থাকে (স্থুলতা/ Obesity),পরিবারের কেউ কিডনি রোগে আক্রান্ত থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে তার কিডনি রোগে আক্রান্ত হবার ঝুকি অনেক বেশী। তাই এসব কারন থাকলে অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাতে হবে।

কিডনি ফেইলুর হয়ে গেলে ভালো হয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই, ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন (Renal Transplant) করে শুধু জীবনকে দীর্ঘায়িত করা সম্ভব। তাই এই রোগ এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটা প্রতিটি সুস্থ্য মানুষের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness