Saturday, February 2, 2019

মাত্রাতিরিক্ত লবণ খাওয়া অবশ্যই কমাবেন, জেনে নিন এর ভয়ঙ্কর অপকারিতা!

অভ্যাস

মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ আমাদের স্বাস্থ্যের বহুবিধ মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে। সে সম্পর্কে জানার আগে প্রথমে জেনে নিই লবণ গ্রহণের স্বাভাবিক পরিমাণ কী এবং কীভাবে আমরা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করে থাকি।

সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ১গ্রাম এবং শিশুদের জন্য আরও কম লবণ গ্রহণ যথেষ্ট। কিন্তু অধিকাংশ দেশেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ৭-১০গ্রাম লবণ গ্রহণ করে থাকেন। বাংলাদেশে এই লবণ গ্রহণের পরিমাণ আরও বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে লবণ গ্রহণের গড় পরিমাণ দিনে ১৬ গ্রাম। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যদি লবণ গ্রহণের পরিমাণ অর্ধেক কমানো যায়, তাহলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে বিশ্বের প্রায় ২৫ লাখ লোকের মৃত্যু প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কিছু নমুনা:
১. রান্নায় অতিরিক্ত লবণ দেওয়া: আমরা অনেকেই রান্না করার সময় তরকারিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণ দেই এবং আমরা প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি লবণে রান্না করা তরকারি খেতে অভ্যস্ত।
২. খাবার টেবিলে লবণদানী: আমরা অনেকেই খাবার সময় রান্না করা খাবারেও অতিরিক্ত লবণ যোগ করে খেতে পছন্দ করি এবং খাবার টেবিলে ছোট লবণদানী রাখি।
৩. কাঁচা ফলমূলে লবণ যোগ করে খাওয়া: আমরা অনেকেই কাঁচা ফলমূল খেতে অভ্যস্ত এবং কাঁচা ফলমূল খাওয়ার সময় আমরা তাতে লবণ যোগ করে খাই। বিশেষ করে মেয়েরা এটা বেশি করে।
৪. বিভিন্ন প্রাঙ্গনের ছোট দোকান হতে: আমরা প্রায়ই অবসর সময়ে হাঁটাহাটি করতে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর গেট ও মাঠে ভ্রাম্যমাণ ছোট দোকান হতে আমড়া, গাজড়, শসা ইত্যাদি কিনে খাই এবং তা খাওয়ার সময় আমরা তাতে লবণ যোগ করে খাই।

এছাড়াও দেখা যায়, অনেকে খাওয়া শুরু করার আগেই জিহ্বাতে একটু লবণ দিয়ে নেন। খাবারকে সুস্বাদু করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উপাদান যেমন- কেচাপ, সয়াসস, টেস্টিং সল্ট, সালাদ বানানোর উপকরণ ব্যবহার করি; যেগুলোর মধ্যে অনেক লবণ থাকে।
লবণের কাজ খাদ্যকে পচন থেকে রক্ষা করা; এজন্য প্রক্রিয়াজাত এবং সংরক্ষিত খাবারে অধিক লবণ থাকে। বর্তমানে ব্যস্ত জীবনযাত্রার জন্য অনেকে বাজার থেকে উচ্চ লবণযুক্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার কিনে আনেন। শুঁটকি মাছ, নোনা ইলিশে প্রচুর লবণ থাকে।
সিদ্ধ ডিম খেতে গেলে অনেকে লবণ দিয়ে খাই। মোট কথা, লবণ খাওয়া নিয়ে আমরা তেমন চিন্তাই করি না। শুধু জিহ্বার স্বাদের জন্য আমরা আমাদের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনি।
চাইনিজ, ফাস্টফুড, স্যুপ, তেলে ভাজা খাবার, কাবাবসহ বিভিন্ন মজাদার খাদ্যে এত বেশি লবণ থাকে যে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর! কিছু চাইনিজ খাবারে ২০ গ্রামেরও বেশি লবণ থাকে অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণের কয়েকগুণ।

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের যেসব অঙ্গ প্রত্যাঙ্গের ক্ষতি করে: মাত্রাতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যাঙ্গের ক্ষতি সাধন করে থাকে; হার্ট, লিভার এবং কিডনি তার মধ্যে অন্যতম।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ হয় এবং এতে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে যা হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ মারাত্মকভাবে হাড় ক্ষয় করে থাকে।
অধিক লবণ পাকস্থলীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করে পাকস্থলী ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কিডনি নষ্টের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি।

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে যেসব রোগ হয়: অধিক লবণ গ্রহণের ফলে আমরা যেসব রোগে ভুগে থাকি, তা হল-

উচ্চ রক্তচাপ : সারা বিশ্বে ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটি প্রধান ঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অধিক লবণ গ্রহণ। বিশ্বের যেসব জনগোষ্ঠী লবণ কম খান তাদের শতকরা ৮০ ভাগের উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের অধিক লবণ গ্রহণের ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাকে। লবণ কম গ্রহণ করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। দীর্ঘদিন ধরে লবণ কম গ্রহণ করলে তা বৃদ্ধ বয়সে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। বাচ্চাদের কোনোভাবেই অধিক লবণ খেতে দেয়া যাবে না। কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি শৈশব থেকেই শুরু হয়। বিশ্বে প্রতি বছর উচ্চ রক্তচাপে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

স্ট্রোক: প্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক অক্ষমতা এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ স্ট্রোক। স্ট্রোকের জন্য উচ্চরক্তচাপ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। উচ্চ রক্তচাপের কারণে শতকরা ৬৪ ভাগের স্ট্রোক হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সব ধরনের স্ট্রোকের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওর: করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক হওয়ার প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের ফলে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে যা হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে আমাদের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লবণ কম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে, ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি কমে।

অস্টিওপোরোসিস : হাড়ের কর্মক্ষমতার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। হাড়ের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে লবণ গ্রহণের ভূমিকা আছে। অধিক লবণ গ্রহণ প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গমন বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমাদের হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয়ে হাড় পাতলা হয়ে যায় যাকে অস্টিওপোরোসিস বলে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার : অধিক লবণ গ্রহণের ফলে পাকস্থলীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইনফেকশন হতে পারে; এর ফলে পাকস্থলীর আলসার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার হয়। যে দেশের জনগোষ্ঠী বেশি লবণাক্ত খাদ্য গ্রহণ করে, তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতার হার অধিক থাকে।

কিডনি রোগ : উচ্চ রক্তচাপ মূত্রে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস করার জন্য প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। যারা কিডনি রোগী, অধিক লবণ গ্রহণ তাদের রোগকে বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু অতিরিক্ত লবণ প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়ামের নির্গমন বাড়িয়ে দেয় সেহেতু এ ক্যালসিয়ামের কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। অধিক লবণ গ্রহণে শারীরিকভাবে স্থূল হওয়ার আশংকা বাড়ে এবং অ্যাজমার উপসর্গ বৃদ্ধি পায়।

অধিক লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার উপায়:
১. রান্নায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন; ধীরে ধীরে লবণ ব্যবহারের পরিমাপ ক্রমাগত কমিয়ে এনে কম লবণে অভ্যস্ত হোন।
২. রান্না করা খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ যোগ করে খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন।
৩. কাঁচা ফলমূলে লবণ দিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৪. বিভিন্ন প্রাঙ্গনের ভ্রাম্যমাণ দোকান হতে আমড়া, গাজড়, শসা ইত্যাদিতে লবণ দিয়ে খাবেন না, আগেই বলে রাখুন লবণ ছাড়া দিতে।
৫. ফাস্টফুড, রেস্টুরেন্ট এবং ক্যান্টিনের খাবারে প্রচুর লবণ থাকে, এসব কম খান।
৬. লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৭. খাদ্য সংরক্ষণে লেবুর রস, ভিনেগার, কাঁচা রসুন, মসলা ব্যবহার করুন।
৮. খাদ্যকে সুস্বাদু করার উপাদান যেমন- কেচাপ, সয়া সস, সালাদ বানানোর উপকরণ কম ব্যবহার করুন।
৯. বড়িতে একেবারে কম লবণ দিয়ে সস, কেচাপ, আচার, সালাদ বা অন্যান্য খাদ্য তৈরি করুন।
(সম্পাদিত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি নিয়ে কিছু কথা যা জানা প্রয়োজন!

খাদ্য

ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে, আর ক্যালসিয়াম শরীরে শোষণ করে কাজে লাগাতে দরকার হয় ভিটামিন ডি। এসব আজকাল প্রায় সবাই জানে। হাড় ক্ষয় রোধ করতে বা হাড় মজবুত করতে ওষুধের দোকান থেকে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির কৌটা কিনে খাওয়াটা অনেকের কাছেই এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু আসলে বয়স হলেই কি ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি বড়ি খাওয়া উচিত?

গড়পড়তা একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৬০০ ইউনিট ভিটামিন ডি হলে চলে। রজঃনিবৃত্তির (মেনোপজ) পর নারীদের এবং সত্তরোর্ধ্ব পুরুষদের দরকার হয় একটু বেশি ক্যালসিয়াম—১২০০ মিলিগ্রাম। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরও লাগে একটু বেশি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এমনকি উন্নত পশ্চিমা বিশ্বেও নারীরা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে থাকেন।

জেনে রাখা ভালো যে ওষুধপত্র ছাড়া কীভাবে আমরা এগুলো বেশি করে পেতে পারি। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে ক্যালসিয়াম আছে। এক কাপ ননিবিহীন দুধ বা এক কাপ সয়া দুধে পাবেন ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। এক কাপ টকদইয়ে থাকে আরও বেশি—৪০০ মিলিগ্রামের মতো। আধা বাটি রান্না করা সবুজ পাতাঅলা শাক খেলে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া হবে। এক গ্লাস কমলার রসে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম আছে কাঁটাযুক্ত মাছ, ব্রকলি ইত্যাদি খাবারে।

তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম বড়ি সেবন করা যাবে বটে, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম কার্বনেট বড়ি তাই খাওয়ার পরপর খাওয়া উচিত। বেশ কিছু ওষুধ অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে যেসব ওষুধ অ্যাসিডিটি কমাতে ব্যবহৃত হয়। একসঙ্গে ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম ওষুধ অন্ত্রে শোষিত হয় না, তাই বেশি মাত্রার ওষুধ খেয়ে লাভ হয় না। ক্যালসিয়াম অন্ত্রে শোষণ করতে ভিটামিন ডি লাগে, তাই ভিটামিন ডি কম থাকলে এটিসহ খেতে হবে।

এ ছাড়া সূর্যালোকে আছে প্রচুর ভিটামিন ডি। ডিমের কুসুম, লোনা পানির মাছেও আছে এ ভিটামিন। তবে যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে যেমন, তেমনি দীর্ঘদিন ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি বড়ি খাওয়ার বেলায়ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা
ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা।
সুত্র: দৈনিক "প্রথম আলো।

ভালো থাকুন | School of Awareness

Friday, February 1, 2019

অবহেলা করবেন না হার্ট অ্যাটাকের এই ৯টি লক্ষণ!

রোগব্যাধি

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক সাধারণ আর দশটি রোগের মত নয়। প্রথমে খুব সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা দিলেও পরবর্তীতে সেটি অবহেলার কারণে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। medicinenet.com এর মতে আমেরিকায় প্রতি বছর ১.১ মিলিয়ন আমেরিকান হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এদের মধ্যে ৪,৬০,০০০ লক্ষ মানুষের হার্ট অ্যাটাক মারাত্নক পর্যায়ে হয়ে থাকে। প্রতিটি হার্ট অ্যাটাকের যে কিছু নিদিষ্ট ও সাধারণ কারণ থাকবে, তা কিন্তু নয়। webmd.com এর মতে সব সময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বুকে ব্যথা হবে, তা নয়। বুকে ব্যথা ছাড়াও কিছু লক্ষণ আছে যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

১। বুকে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হয় বুকে ব্যথা। সাধারণত বুকের মাঝখান থেকে প্রচন্ড চাপ ব্যথা অনুভূত হয়। আস্তে আস্তে সেই ব্যথা চোয়ালে অথবা বাম কাঁধ ও বাহুতে ছড়িয়ে পড়ে থাকে। এই রকম ব্যথা দেখা দিলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২। শ্বাস কষ্ট ও দম ফুরিয়ে যাওয়া
যদি আপনার অ্যাজমা বা অন্য কোন সমস্যা না থাকে এবং হঠাৎ করে শ্বাস কষ্ট সমস্যা দেখা দেয় মূলত হৃদরোগ থেকে ফুসফুসে পানি জমা সহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ঠান্ডা ছাড়াও শ্বাস কষ্ট এর সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। অল্পতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া, মুখ দিয়ে নিঃ শ্বাস নেওয়াও ভবিষ্যত হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।

৩। ঘাম হওয়া
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিকস রোগীর ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ শরীর খারাপ লাগা শুরু হলে অব্যশই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

৪। কাশি
আপনার যদি দীর্ঘদিন কাশির সমস্যা থাকে, এবং তার সাথে সাদা বা গোলাপি কফ বের হয়। তবে বুঝতে হবে আপনার হার্ট ঠিকমত কাজ করছে না। ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তবে হ্যাঁ কাশি সবসময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নাও হতে পারে। কফের সাথে নিয়মিত রক্ত বের হলে এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

৫। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
যদি কাজের মধ্যেই আপনি প্রায়ই হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যান, তাহলে বুঝবেন হার্টের সমস্যা রয়েছে। এটি যদি কোন দুশ্চিন্তার কারণে না হয়ে থাকে তবে দ্রুত কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৬। খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়া 
আপনি কি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন? কিছুক্ষণ কাজ করলে বুক ধড়ফড় করে? তবে আপনি এখনই কোন হার্টের চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। বিশেষ করে মহিলাদের হার্টের সমস্যার প্রধান লক্ষণ এটি হয়ে থাকে। 

৭। মাথা ব্যথা
যখনই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, আমরা ওষুধ খেয়ে থাকি। কিন্তু জানেন কি, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হল প্রতিদিনকার প্রচন্ড মাথা ব্যথা।

৮। বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা ও ফুলে যাওয়া
আপনার বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে হাত-পায়ের গিঁট ব্যথা ও ফুলে যাওয়া সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। তবে দীর্ঘদিন হলে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরে পানি চলে আসার করণে শরীরের পানি চলে আসে , যার কারণে হাত-পায়ের গিঁট ফুলে যায়। বিশেষত অনেকক্ষণ কোথাও বসে থাকলে পায়ে পানি চলে আসে। নিয়মিত এটি ঘটলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

৯। অনিয়মিত পালস রেট
আপনি যদি অনেক বেশি নার্ভাস থাকেন বা কোথাও থেকে দৌড়ে আসেন আপনার পালস রেট উঠা নামা করতে পারে। তবে এটি যখন কোন কারণ ছাড়াই উঠা নামা করে সেটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিতভাবে যদি এই সমস্যা দেখা দেয় তবে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়াবেটিকস বা উচ্চ রক্তচাপ রোগীরা উপরোক্ত কোন কারণকে অবহেলা করবেন না। উপরোক্ত যেকোন একটি কারণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

এই সাতটি উপায় মেনে চলুন, সুস্থ থাকবে কিডনী

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ

কিডনি ফেইলুর বা রেনাল ফেইলুর শরীরের এক নীরব ঘাতক, প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই কেউ না কেউ এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত। তাই আমরা সকলেই কমবেশি জানি এ রোগের ভোগান্তি কতটা নির্মম; কিন্ত আমরা কি জানি কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে সহজেই এই রোগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই কিভাবে সহজেই আপনার কিডনিকে সুস্থ্য রাখা সম্ভব:

১। কর্মঠ থাকুনঃ নিয়মিত হাটা, দৌড়ানো, স্লাইকিং করা বা সাতার কাটার মতো হাল্কা ব্যায়াম করে আপনার শরীরকে কর্মঠ ও সতেজ রাখুন। কর্মঠ ও সতেজ শরীরে অন্যান্য যেকোন রোগ হবার মতো কিডনি রোগ হবার ঝুকিও খুব কম থাকে।

২। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ৫০ জনই কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রনে না থাকলে কিডনি নষ্ট হবার ঝুকি আরো বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন, নিয়মিত আপনার রক্তের সুগার পরীক্ষা করিয়ে দেখুন তা স্বাভাবিক মাত্রায় আছে কিনা, না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধু তাই নয় অন্তত তিন মাস পরপর হলেও একবার আপনার কিডনি পরীক্ষা করিয়ে জেনে নিন সেটা সুস্থ্য আছে কিনা।

৩। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ অনেকেরই ধারনা যে উচ্চ রক্তচাপ শুধু ব্রেইন স্ট্রোক (stroke) আর হার্ট এটাকের (heart attack) এর ঝুকি বাড়ায়,তাদের জেনে রাখা ভালো যে কিডনি ফেইলুর হবার প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। তাই এ রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। কোন কারনে তা ১২৯/৮৯ মি,মি, এর বেশী হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত অসুধ সেবন এবং তদসংক্রান্ত উপদেশ মেনে চললেই সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

৪। পরিমিত আহার করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুনঃ অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য ঝুকিপূর্ণ, তাই সুস্থ্য থাকতে হলে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কিডনি রোগ হবার ঝুকি অনেক কমে যায়। অন্যদিকে হোটেলের তেলমশলা যুক্ত খাবার, ফাষ্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে রোগ হবার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। মানুষের দৈনিক মাত্র ১ চা চামচ লবন খাবার প্রয়োজন আছে -খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়াও কিডনি রোগ হবার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়। তাই খাবারে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন।

৫। ধুমপান পরিহার করুনঃ অধুমপায়ীদের তুলনায় ধুমপায়ীদের কিডনি ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ গুণ বেশী। শুধু তাই নয় ধুমপানের কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পেতে শুরু করে। এভাবে ধুমপায়ী একসময় কিডনি ফেইলুর রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়।

৬। অপ্রয়োজনীয় অসুধ সেবনঃ আমাদের মাঝে অনেকেরই বাতিক রয়েছে প্রয়োজন / অপ্রয়োজনে দোকান থেকে অসুধ কিনে খাওয়া। এদের মধ্যে ব্যথার অসুধ (NSAID) রয়েছে শীর্ষ তালিকায়। জেনে রাখা ভাল যে প্রায় সব অসুধই কিডনির জন্য কমবেশি ক্ষতিকর আর এর মধ্যে ব্যথার অসুধ সবার চেয়ে এগিয়ে। নিয়ম না জেনে অপ্রয়োজনীয় অসুধ খেয়ে আপনি হয়তো মনের অজান্তেই আপনার কিডনিকে ধংস করে যাচ্ছেন -তাই যে কোন অসুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন তা আপনার ক্ষতি করবে কিনা।

৭। নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানঃ আমাদের মাঝে কেউ কেউ আছেন যাদের কিডনি রোগ হবার ঝুকি অনেক বেশি, তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত। কারো যদি ডায়াবেটিস এবং/ অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকে,ওজন বেশী থাকে (স্থুলতা/ Obesity),পরিবারের কেউ কিডনি রোগে আক্রান্ত থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে তার কিডনি রোগে আক্রান্ত হবার ঝুকি অনেক বেশী। তাই এসব কারন থাকলে অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাতে হবে।

কিডনি ফেইলুর হয়ে গেলে ভালো হয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই, ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপন (Renal Transplant) করে শুধু জীবনকে দীর্ঘায়িত করা সম্ভব। তাই এই রোগ এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটা প্রতিটি সুস্থ্য মানুষের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

Thursday, January 31, 2019

স্ট্রোক কী? স্ট্রোকে কী করনীয়?

রোগব্যাধি

হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার ঘটনা খুব কমন আমাদের দেশে । এই স্ট্রোক নিয়ে তথ্যবহুল ও উপকারী একটা লেখা পেলাম, পড়ে দেখতে পারেন, কাজে দিবে।

স্ট্রোক কি?
ব্রেইনের রক্ত সরবরাহ যখন কোন কারনে বিঘ্নিত হয় তখনই স্ট্রোক হয়। বিশেষ করে রক্ত নালী ব্লক হয়ে কিংবা রক্তনালী ছিড়ে ব্রেইনের এই রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয় । রক্তে থাকে অক্সিজেন আর পুষ্টিগুন । ব্রেইন টিস্যুর খাদ্য হল এই অক্সিজেন আর পুষ্টিগুন । ফলে অক্সিজেনের অভাবে ব্রেইন টিস্যুগুলো মারা যায়। স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারন উচ্চরক্তচাপ!

স্ট্রোকের ভয়াবহতা:
সারাবিশ্বে স্ট্রোকে মৃত্যুর তৃতীয় কারণ ব্রেইন স্ট্রোক। বাংলাদেশে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সারাবিশ্বে প্রতি ৬ জনে একজন স্ট্রোক করে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধতার সবচেয়ে বড় কারণ স্ট্রোক ।

স্ট্রোকের টাইপ :
সিডিসি (CDC= Center for disease control and prevention) এর মত অনুযায়ী ব্রেইন স্ট্রোক তিন ধরনের।
১. ইশকেমিক স্ট্রোক (Ischemic stroke): মস্তিষ্কের রক্তনালীর ভিতরে রক্ত জমাট (blood Clot) বেধে গেলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে ব্রেইনের কিছু টিস্যূ অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এটাই ইশকেমিক স্ট্রোক। বেশির ভাগ স্ট্রোকই ইশকেমিক স্ট্রোক!
২. হেমোরেজিক স্ট্রোক (Haemorrhagic Stroke): মস্তিষ্কের কোন রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে এই ধরনের স্ট্রোক হয়!
৩. ছোট স্ট্রোক (Mini Stroke or Transient Ischemic Stroke - TIA): মস্তিষ্কের রক্তনালীতে অস্থায়ীভাবে অল্প কিছু সময়ের জন্য রক্ত জমাট বেধে এই স্ট্রোক সৃষ্টি করে; যেটা দ্রুতই আবার ভাল হয়ে যায়।

কি কি কারনে স্ট্রোক হতে পারেঃ
অনেকগুলো রিস্ক ফ্যাক্টর আছে, যেগুলো থাকলেই মূলত স্ট্রোক হওয়ার সম্ভবনা অনেক অনেক বেড়ে যায় । এই রিস্ক ফ্যাক্টর গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে যেগুলো আমরা কখনই নিয়ন্ত্রন করতে পারি না:
বয়স (age): বয়স বাড়ার সাথে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে, এটা আমরা নিয়ন্ত্রন করতে পারি না ।
লিঙ্গ (gender) : স্ট্রোক পুরুষদেরই বেশি হয়ে থাকে ।
২। মেডিকেল রিস্ক ফ্যাক্টর: কিছু কিছু মেডিকেল কন্ডিশন (সমস্যা) আছে যেগুলোর কারনে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় ।

ট্রানজিয়েন্ট ইশকেমিক এটাক (TIA – Transient Ischemic Attack ): এটা স্ট্রোকের মতই, এর ফলে এক হাত পা এবং মুখের এক পাশ প্যারালাইসিস হয়ে যায়। আবার দ্রুত ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আগের মত ভাল হয়ে যায়। এটাকে আমরা মিনি স্ট্রোক বলতে পারি । এই মিনি স্ট্রোককে খুব সাবধানে নিতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসক দেখাতে হবে । কারন মিনি স্ট্রোক বড় স্ট্রোকের বার্তা দিয়ে যায় ।

অনিয়মিত হার্টবিট (Irregular pulse – Atrial fibrillation ): অনিয়মিত হার্টবিট স্ট্রোকের সম্ভবনা কে অনেকগুন বাড়িয়ে দেয় । তাই এটাকে চিকিৎসক দেখিয়ে চিকিৎসা করানো জরুরি ।

ডায়বেটিস (Diabetes ) : ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে না পারলে স্ট্রোকের সম্ভবনা অনেক গুন বেড়ে যায় ।

ফাইব্রোমাস্কুলার ডিসপ্লাসিয়া (FibroMuscular Dysplasia -FMD): এটাও স্ট্রোকের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়!

অথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis) : সিংহভাগ ইশ্চকেমিক স্ট্রোকের বড় কারণ এই অথেরোস্ক্লেরোসিস। কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ এবং অধিক বয়সজনিত কারণে এই অথেরোস্ক্লেরোসিস হয়ে থাকে।

৩। লাইফ স্টাইলগত কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর: যেইগুলো আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রন করতে পারেন:
[] উচ্চরক্তচাপ 
[] উচ্চমাত্রার কোলস্টেরল 
[] ধূমপান 
[] অতিরিক্ত ওজন 
[] চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহন 
[] শারিরীক প্ররিশ্রম না করা 
[] অনেক বেশি অলকোহল পান করা

স্ট্রোকের লক্ষণসমূহঃ
→ হঠাৎ করে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা
→ হঠাৎ করে চোখে দেখতে সমস্যা (এক চোখ বা দুই চোখ) 
→ হঠাৎ করে তন্দ্রাচ্ছভাব হওয়া, হাঁটতে সমস্যা হওয়া ।
→ হঠাৎ করে করে কনফিউশন হওয়া এবং কথা বলতে অসুবিধা হওয়া ।
→ শরীরের এক পাশ হাত এবং পা অবশ হয়ে যাওয়া ।

স্ট্রোকের লক্ষণ সমূহ সহজে মনে রাখতে FAST শব্দটি মাথায় রাখুন
F = face, মুখ এক পাশে বেকে যায়
A = Arm, এক পাশে হাত পা অবশ হয়ে যেতে পারে
S = Speech, কথা বলতে অসুবিধা হবে ।
T = Time to call

উপরের লক্ষণ সমূহ দেখলেই কল দিতে পারেন 01787152872 (তথ্যের জন্য) এবং নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেন ।

স্ট্রোক প্রতিরোধের নিয়ম সমূহঃ
ল্যানসেটের গবেষনা অনুযায়ী ৯০% স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য । তাই আসুন নিজে স্ট্রোক প্রতিরোধ করি এবং অন্যকে সচেতন করি ।

১। উচ্চরক্তচাপঃ উচ্চরক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারন । বছরে দুইবার অন্তত রক্তচাপ চেক করুন । রক্তচাপ বেশি হলে আপনার নিকটবর্তী হেলথ কেয়ার প্রফেশনালের সাথে যোগাযোগ করুন ।

২। আর্টিয়াল ফিব্রিলেশনঃ আর্টিয়াল ফিব্রিলেশন এক ধরনের অনিয়মিত হার্টবিট , যেটা স্ট্রোক ঝুঁকিকে ৫গুন বাড়িয়ে দেয় । দ্রুত আপনার হেলথ কেয়ার প্রফেশনালের সাথে যোগাযোগ করেন ।

৩। ধূমপান পরিহার করুনঃ ধূমপানের কারনে পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুন বেড়ে যায়।

৪। উচ্চ কোলস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করুনঃ রক্তনালীতে উচ্চমাত্রার কোলস্টেরল ব্রেইনের রক্তনালীতে রক্ত প্রবাহ ব্লক করে দিয়ে পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ট এটার্কের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় । আপনার চিকিৎসকের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিন।

৫। ডায়বেটিসঃ ডায়বেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির স্ট্রোক ঝুঁকি ৪ গুন বেশি যাদের স্ট্রোক নেই তাদের চেয়ে । তাই ডায়বেটিস থাকলে ডায়বেটিস চিকিৎসকের পরামর্শমত চলবেন ।

৬। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খানঃ নিয়মিত কম চর্বিযুক্ত , কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খাবেন।

৭। মেডিসিনঃ মেডিসিন প্রেসক্রাইভ করা হয় স্ট্রোক রিকভারী এবং স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য। গবেষনায় দেখা গেছে অধিকাংশ স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী ৩ মাসের মধ্যে মেডিসিন খাওয়া বন্ধ করে দেয় । আর এই গ্রুপের লোকজন পুনরায় স্ট্রোক আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি ।

৮। ব্যায়াম করুনঃ গবেষনায় দেখা গেছে যারা প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করে তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক অনেক কম। শারীরিক কোন সমস্যা থাকলে অবশ্যই ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম থাকবেন।

বার বার স্ট্রোক কিভাবে প্রতিরোধ করবেনঃ
বার বার স্ট্রোক ( Recurrent stroke)! প্রতিরোধ আপনার হাতে....
স্ট্রোক হয়েছে মানে আপনার পুনরায় স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি সাধারনের চেয়ে ৪ গুন বেশি। প্রথম স্ট্রোক হওয়ার ৫ বছরের মধ্যে পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি ৪০% বেড়ে যায় ।
তবে আশার কথা হলো আপনি চাইলে ৮০% পুনরায় স্ট্রোক ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারেন শুধু মাত্র লাইফ স্টাইল এবং মেডিসিনের মাধ্যমে ।

পুনরায় স্ট্রোকে মৃত্যু ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি এবং পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) এর হারও অনেক বেশি । কারন মস্তিষ্কের কিছু অংশ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত, পুনরায় স্ট্রোক মানে মস্তিষ্কে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ।
আপনার প্রথমবার স্ট্রোক হওয়ার কারণগুলো বের করুন আপনার হেলথ কেয়ার প্রফেশনালের সাথে কথা বলে।

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে The best defense is good offense , স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সেটা The best defense against recurrent stroke is good offense. অর্থাৎ ভালভাবে কারনগুলো প্রতিরোধ করতে পারলে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগই নেই।

নিম্নে পুনরায় স্ট্রোক ( Recurrent Stroke) প্রতিরোধের উপায় গুলো দেওয়া হল:
১। ধূমপান পরিহার করুনঃ ধূমপানের কারনে পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুন বেড়ে যায় ।
২। উচ্চরক্তচাপঃ উচ্চরক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনযোগ্য (modifiable risk factor) । উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি দেড় গুন বেশি হয়ে থাকে ।
৩ । মেডিসিনঃ মেডিসিন প্রেসক্রাইভ করা হয় স্ট্রোক রিকভারী এবং স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য। গবেষনায় দেখা গেছে অধিকাংশ স্ট্রোক আক্রান্ত রোগী ৩ মাসের মধ্যে মেডিসিন খাওয়া বন্ধ করে দেয় । আর এই গ্রুপের লোকজন পুনরায় স্ট্রোক আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি ।
৪ । উচ্চ কোলস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করুনঃ রক্তনালীতে উচ্চমাত্রার কোলস্টেরল ব্রেইনের রক্তনালীতে প্রবাহ ব্লক করে দিয়ে পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ট এটার্কের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় ।
৫। ডায়বেটিসঃ ডায়বেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির স্ট্রোক ঝুঁকি ৪ গুন বেশি যাদের স্ট্রোক নেই তাদের চেয়ে ।
৬। আর্টিয়াল ফিব্রিলেশনঃ আর্টিয়াল ফিব্রিলেশন এক ধরনের অনিয়মিত হার্টবিট , যেটা স্ট্রোক ঝুঁকিকে ৫গুন বাড়িয়ে দেয় । দ্রুত আপনার হেলথ কেয়ার প্রফেশনালের সাথে যোগাযোগ করেন ।
৭। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খানঃ নিয়মিত কম চর্বিযুক্ত , কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খাবেন ।
৮। ফিজিওথেরাপি নিনঃ স্ট্রোকের পরে সপ্তাহে কয়েকদিন ফিজিওথেরাপি বা নিয়মিত ব্যায়াম করলে পুনরায় স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক অনেক কম ।

স্ট্রোকের চিকিৎসা :
স্ট্রোকের লক্ষনসমূহ বুঝার সাথে সাথে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। ৩ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা দিতে পারে ৩১% রোগী ভাল হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরতে পারে।

ল্যানসেটের গাইডলাইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
একটু স্ট্যাবল হলে পুরোপুরি পূর্নবাসন চিকিৎসা শুরু করা দরকার। নিউরোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পীচ থেরাপিস্ট, ফিজিশিয়ান, নার্স সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সঠিক পূর্নবাসনের মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীর সর্বচ্ছো উন্নতি সম্ভব।

ধন্যবাদ 
ডাঃ সাইফুল ইসলাম, পিটি 
পরিচালক, বাংলাদেশ স্ট্রোক ফাউন্ডেশন।

ভালো থাকুন | School of Awareness

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কী করবেন? জেনে রাখুন জরুরী কিছু সতর্ক বার্তা!

প্রজন্ম

বিয়ের আগে পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি আমরা, কিন্তু ভুলে যাই সব চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাপার স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সংক্রান্ত ব্যাপার টি, আসুন জেনে নেয়া যাক এই বিষয়ে জরুরী কিছু তথ্য।

স্বামী-স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ কেমন হওয়া উচিত?

সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। প্রধানত রক্তের গ্রুপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হল ABO system (A, B, AB & O), আরেকটা হল Rh factor {Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve)}. অর্থ্যাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে।

তাহলে ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve.জেনে নেয়া যাক, যদি অন্য গ্রুপের ব্লাড কারো শরীরে দেয়া হয় তাহলে কী হবে?

যখন কোনো Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড দেয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারণত কিছু হবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরি হবে যার ফলে যদি কখনো রোগী আবার পজেটিভ ব্লাড নেয় তাহলে তার ব্লাড cell গুলো ভেঙ্গে যাবে, এর কারণে অনেক সমস্যা হবে। যেমন জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি।

এই সমস্যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলা হয় ABO incompatibility.স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার? স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হতে হবে।

আর যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। তবে স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে তার স্বামীর ব্লাডগ্রুপ ও নেগেটিভ হতে হবে।যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হবে?

রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তবে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারণত বাচ্চার ব্লাডগ্রুপ ও পজেটিভ হবে। যখন কোনো নেগেটিভ ব্লাডগ্রুপের মা ধারন করবে পজেটিভ Fetus(ভ্রুন) তখন সাধারনত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ Fetus এর ব্লাড, placental barrier ভেধ করে এবং placental displacement এর সময় মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে।মায়ের শরীরে ডেলিভারির সময় যে ব্লাড প্রবেশ করবে, তা ডেলিভারি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরি করবে। যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবে, তখন যদি তার fetus এর ব্লাডগ্রুপ পুনরায় পজেটিভ হয়। তাহলে মায়ের শরীরে আগে যেই Rh এন্টিবডি তৈরি হয়েছিলো সেটা placental barrier ভেধ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন fetus এর শরীরে Rh antibody ঢুকবে তখন fetal এর RBC এর সঙ্গে agglutination হবে, যার ফলে RBC ভেঙ্গে যাবে। একে মেডিকেল টার্ম এ “Rh incompatibility” বলে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

স্ত্রী দেহের বিকৃতির কারণ ও প্রতিকার


বিয়ের বছর পরেই স্ত্রীর দেহগঠন আগের মতো নেই? জেনে নিন কী ভুল করছেন প্রতিদিন!

নারীর দেহগঠন নষ্ট হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে যৌনাঙ্গ স্থায়ীভাবে প্রশস্ত হওয়া একটি। যেসব কারণে নারীর যৌনাঙ্গ স্থায়ীভাবে প্রশস্ত হয়ে যায়, সেগুলো হলো:

১. অতিমাত্রায় যৌনমিলন : জীবনের তাগিদে অনেক সময় অপরিণত বয়সে অনেকেই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিয়ের আগে এক বা একাধিক পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকে এবং মাত্রাতিরিক্ত যৌনমিলনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই আবার বিয়ের আগে একাধিকবার এমআর করে থাকে, যার কারণে যৌনাঙ্গ অকালেই প্রসারিত হয়ে যায়। ফলে দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়।

২. অপরিণত বয়সে যৌনমিলন : আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ একটি বহুল প্রচলিত সামাজিক সমস্যা। বাল্যবিবাহে সাধারণত ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়। বয়স কম থাকার ফলে এই বয়সী মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা লাভ করে না এবং অপরিপক্ব বয়সে দৈহিক মিলনের ফলে নারীর যৌনাঙ্গ বা যোনীপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এতে পরিণত বয়সে পুরুষ সঙ্গীটি যৌনমিলনে আর স্বাভাবিক তৃপ্তি পায় না। ফলে দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, পরকীয়া প্রেমের মতো ঘটনাও ঘটে থাকে।

৩. নরমাল ডেলিভারি : নরমাল ডেলিভারিতে স্বাভাবিকভাবেই নারীর প্রসবের রাস্তা বড় হয়ে যায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যায়। তা ছাড়া বড় মাথার বাচ্চা বা উল্টো ডেলিভারির (Breech Delivery) বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চার জীবন বাঁচানোর জন্য পেরিনিয়াল মাংসপেশি কাটতে এপিসিওটমি (Episiotomy) অপারেশন করাতে হয়, যা সেলাই করার পরও আগের মতো স্বাভাবিক হয় না। এর ফলে নারীর যৌনীপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুর্বল মাংসপেশির জন্য প্রসবের রাস্তা স্থায়ীভাবে প্রশস্ত হয়ে যায়।

৪. প্রিসিপিটেট লেবার : ডেলিভারিতে ডেলিভারি-প্রক্রিয়ার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ দুই ঘণ্টার চেয়ে কম সময়ে সম্পূর্ণ হয়, ফলে সারভাইকাল টেয়ার (সারভিক্স ছিলে যাওয়া), থার্ড ডিগ্রি পেরিনিয়াল টেয়ার (ভেজাইনাল টিস্যু, পেরিনিয়াল স্কিন, পেরিনিয়াল মাংসপেশি থেকে শুরু করে পায়ুপথের মাংস পর্যন্ত ছিঁড়ে যায়)। সাধারণত সেলাই করার পরও আগের মতো স্বাভাবিক হয় না, ফলে নারীর যৌনীপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে প্রসবের রাস্তা স্থায়ীভাবে প্রশস্ত হয়ে যায়।

৫. প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা (Urinary incontence in Female) : নিম্নাঙ্গের মাংসপেশি দুর্বলতার কারণে অনেক নারীই প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না। নরমাল ডেলিভারিতে যোনীপথের মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মূত্রথলি ওপর থেকে নিচে নেমে আসে এবং মূত্রথলির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে হাঁচি-কাশিতে প্রস্রাব বের হয়ে যায়, এমনকি বাথরুমে যাওয়ার আগেই ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব পড়তে থাকে।

৬. স্বল্প সময়ে বারবার অদক্ষ হাতে এমআর ও ডিঅ্যান্ডসি করানো : আমাদের সমাজে বহুগামিতা থেকে শুরু করে নানাবিধ ত্রুটিপূর্ণ যৌন আচরণের ফলে অগণিত নারী নীরবে অসুন্দর ও প্রশস্ত যোনীপথের সমস্যায় দিনাতিপাত করছে। এ-জাতীয় সমস্যার কারণে নারী যখন তার সঙ্গীকে সঠিকভাবে যৌনসুখ দিতে পারে না, তখন পুরুষেরা তার সাথে সম্পর্ক ছেদ করতেও সামান্য দ্বিধাবোধ করে না।

এত দিন যাবৎ এ সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো উপায় না থাকায় নারীদেরকে নীরবে মুখ বুজে কষ্ট সহ্য করতে হত। বর্তমানে লেজার সার্জারির মাধ্যমে কোনো ধরনের কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই স্বল্প সময়ে সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। নারীর প্রশস্ত হয়ে যাওয়া যোনীপথকে নিরাপদে সংকুচিত করে যৌবনের আটসাট গঠন ফিরিয়ে দেয়ার অত্যাধুনিক চিকিৎসা লেজার ভ্যাজাইনোপ্লাস্টি (Laser Vaginoplasty ) এখন বাংলাদেশেই হচ্ছে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness