Monday, February 11, 2019

জেনে নিন, কোন কোন প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন নিতে হবে!


প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন নেওয়া প্রসঙ্গে জেনে নেওয়া যাক; দেখুন, কোন কোন প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন দিতে হয় আর কোন কোন প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন দিতে হয় না।

যে সকল প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন দিতে হবে- ১. কুকুর, ২. বিড়াল, ৩. শিয়াল, বেঁজি, ৫. বানর, ৬. বাদুর।

যে সকল প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন নাই- ১. ইঁদুর, ২. খরগোস, ৩. কাঠবিড়ালী, ৪. গুঁইসাপ, ৫. মানুষ।

যে সকল অবস্থায় ভ্যাকসিন নিতে সমস্যা নাই- ১. গর্ভাবস্থায়, ২. মায়ের দুগ্ধদানকালে, ৩. অন্য যেকোনো অসুস্থতায়, ৪. ছোট বাচ্চা, ৫. বৃদ্ধ।

নোট: ক্ষতস্থানে কমপক্ষে ১০-২০ মিনিট ধরে প্রচুর পরিমাণে কাপড় কাচার সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

Friday, February 8, 2019

বয়সের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা!


বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধতে শুরু করে। আর রোগ-ব্যাধি সব সময় বলে-কয়ে আসে না। তাই বেশির ভাগ সময় রোগের জটিল পর্যায়ে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে মারাত্মক সব জটিলতা এড়ানো সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করতে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, তাকে স্ক্রিনিং টেস্ট বলে। আসুন জেনে নিই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কী কী স্ক্রিনিং টেস্ট করা জরুরি।

রক্তের শর্করা
রক্তের শর্করার পরিমাণ বাড়লে ডায়াবেটিস হয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা, অন্ধত্বসহ নানা ধরনের জটিলতার জন্য দায়ী। প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিস শনাক্ত ও জটিলতা এড়াতে চল্লিশের পর সবার উচিত রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করা।

লিপিড প্রোফাইল
উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ধমনির গায়ে জমে হৃদ্‌রোগ আর স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বয়স ৩৫-এর বেশি হলে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল করতে হবে। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে বা এগুলোর পারিবারিক ইতিহাস থাকলে তা আরও নিয়মিত করতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে যেকোনো বয়সেই। তবে চল্লিশের পর আশঙ্কা বেশি। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থেকে হার্ট ফেইলিওর, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে।

চক্ষু পরীক্ষা
চল্লিশের পর সাধারণত দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। পড়তে শুরু করে চোখের ছানি। গ্লুকোমা হলে চোখের অপটিক নার্ভ ধীর ধীরে নষ্ট হয়ে দৃষ্টিহীনতা দেখা দেয়। তাই চল্লিশের পর অবশ্যই বছরে একবার চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরি।

ক্যানসার স্ক্রিনিং
ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ কোলোরেক্টাল ক্যানসার। উপসর্গবিহীন এই রোগ একবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে এ বিষয়ে পরীক্ষা করতে হবে।

তাছাড়া চল্লিশের পর প্রত্যেক পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার এবং নারীদের জরায়ু মুখের ক্যানসারের পরীক্ষা করাতে হবে।

হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা
হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্টিওপোরেসিস হলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বয়স চল্লিশ পার হলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করাতে হবে।

- ডা. এ হাসনাত শাহীন,
ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতাল।

উৎস: দৈনিক 'প্রথম আলো'য় ডা. এ হাসনাত শাহীন এর লেখা থেকে সংগৃহীত।

ভালো থাকুন | School of Awareness

জেনে নিন, পিতামাতার রক্তের গ্রুপ সন্তানের উপর কীরূপ প্রভাব ফেলে?

এই বর্ণনা থেকে সহজভাবে জেনে নিতে পারেন পিতামাতার রক্তের গ্রুপ সন্তানের উপর কীরূপ প্রভাব ফেলে থাকে।

(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

যেসব খাবার ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়!


ফ্রিজে আলু, টমেটো ও আপেলের মতো খাবারগুলো রাখা ঠিক নয়।

এখনকার দিনে বাড়িতে ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর অনেকে জরুরি বলে মনে করেন। এতে অনেক খাবার সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু রেফ্রিজারেটরে সব খাবার রাখা যায় না। পরিচিত খাবারের মধ্যে কিছু খাবার রেফ্রিজারেটরে রাখলে তার স্বাদ ও গন্ধ বদলে যায়। কমে যায় পুষ্টিমান। কয়েকটি পরিচিত খাবার আছে, যা ফ্রিজে না রাখাই ভালো:

টমেটো: অনেকে টমেটো কিনে ফ্রিজে রেখে দেন। এতে টমেটো নিস্তেজ ও ময়দার তালের মতো তুলতুলে হয়ে যায়। একটা খোলা কনটেইনারে টমেটো ভরে জানালার পাশে রাখতে পারেন। এতে টমেটো সতেজ ও টুসটুসে থাকবে।

আলু: আলু যে ফ্রিজে রাখতে নেই—এ কথা অনেকেরই জানা। ফ্রিজে রাখলে আলুর শর্করার গুণাগুণ নষ্ট হয়। আলুতে যে মিষ্টি ভাব থাকে, ফ্রিজের হিমাগার তা শুষে নেয়। এতে আলুর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজে রাখার চেয়ে খোলা ঝুড়িতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ভালো থাকে আলু।

পেঁয়াজ: ফ্রিজে পেঁয়াজ রাখলে নরম হয়ে নষ্ট হতে পারে। যদি রাখতেই হয়, ব্যাগে ভরে সবজির ড্রয়ারে রাখতে পারেন। তা না হলে ফ্রিজের আর্দ্রতায় পেঁয়াজ ভালো থাকবে না।

মধু: মধুর মধ্যে থাকা সুগার ঠান্ডা হাওয়ায় কেলাসিত হয়ে যায়, যা মধুর স্বাদ ও গুণাগুণ একদম কমিয়ে দেয়। তাই মধু ফ্রিজের বাইরে রাখাই উচিত। 

রসুন: ফ্রিজে রাখলে রসুন খুব তাড়াতাড়ি অঙ্কুরিত হয়ে যায়। এমনকি রসুন অপেক্ষাকৃত নরম হয়ে যায়। তবে রসুন বেটে বা ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন।

পাউরুটি: পাউরুটির নিজস্ব আর্দ্রতা রয়েছে। ফ্রিজে রাখলে পাউরুটি আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। শক্ত হয়ে যায়।

কফি: বায়ু চলাচল করতে পারে না—এমন কনটেইনারে কফি রাখা উচিত। ফ্রিজে রাখলে কফি বিন বা পাউডারের আর্দ্রতায় নষ্ট হয়ে যায়। এর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কফির গন্ধ চলে যায়। এর বদলে একধরনের দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

আপেল: স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আপেল মিষ্টি আর রসাল থাকে। ফ্রিজে রাখলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। এ ছাড়া বাইরের আবরণ শুষ্ক হয়ে যায়। আপেলের রসাল ভাব থাকে না।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ভালো থাকুন | School of Awareness

Thursday, February 7, 2019

এক রাত ভালো ঘুম না হলে যে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন আপনি, জানুন কেনো?


শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কম ঘুমানোর মতোই বেশি ঘুমানোটাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার শৈশবে, কৈশোরে, তারুণ্যে, যৌবনে আর বার্ধক্যে ঘুমের চাহিদাও আলাদা আলাদা।

বয়স অনুযায়ী ঘুমের হিসাব
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন, তবে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঠিকঠাক ঘুমাতে পারলেও ওরা নিজেকে চালিয়ে নিতে পারে। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে কারো কারো নিয়মিত ৭ ঘণ্টা ঘুমালেও চলতে পারে। আর বয়ঃসন্ধির সময়টাতে অনেকেরই প্রায় ১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ১১ ঘণ্টার চেয়ে বেশি ঘুমালে তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

মার্কিন গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য শিকাগোর লয়োলা ইউনিভার্সিটির লিডিয়া ডনকারলোস বলেছেন, সারকাডিয়ান ক্লক বা দেহঘড়ির প্রভাবে টিনেজারদের সাধারণত রাতে একটু দেরিতে ঘুম পায় এবং ওরা দেরি করে ঘুম থেকে উঠতে চায়। কিন্তু যখনই ঘুমাক আর যখনই উঠুক, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানোটা খুবই জরুরি। তিনি আরও বলেন, ছুটির দিনে ঘুম পুষিয়ে নেওয়ার চিন্তা অনেকেই করে বটে কিন্তু আসলে ‘বকেয়া ঘুম কখনোই পুষিয়ে নেওয়া যায় না’।

১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন, তবে কারও কারও নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুমেও সব ঠিকঠাক থাকতে পারে। ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭-৮ ঘণ্টা। কিন্তু অনেকেই দিনের বেলায় ভাতঘুম দিয়ে রাতে নিয়মিত ৫ ঘণ্টাতেও দিব্যি ভালো থাকতে পারেন।

শতকরা ৪০ ভাগ লোক এর চেয়ে কম ঘুমায় । মাত্র এক রাত ঘুম কম হলেই আপনার শরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করে। যথেষ্ট ঘুম না হলে চোখ লাল হয়, গায়ের চামড়ার রঙ নষ্ট হয়। অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যথেষ্ট ঘুম না ঘুমালে কী কী ক্ষতি হয়—
ঘুম কম হওয়া বা কিছু সময় ধরে ঘুম কম হওয়ার সমস্যাটি শুরুতে অল্প থাকলেও পরে তা বড় সমস্যায় রূপ নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের ঘুম না হওয়ার পিছনে অনেক কারণের একটি হচ্ছে খাবার-দাবার। অতিরিক্ত ক্যালরি আছে এমন খাবার বা অতিরিক্ত শর্করার খাবার খেলে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

জেনে নিন ঘুম না এলে কি করবেন?
১৫ জন লোকের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে মাত্র এক রাত ঘুম না হলেই মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় শুরু হয়। ১৭৪১ জন নারী এবং পুরুষের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যারা ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে ছয় ঘণ্টারও কম ঘুমান তাদের মধ্যে মারাত্মক ধরনের মৃত্যুহার বেশি থাকে। তাছাড়া তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সহ আরো অনেক রোগের হার বেশি।

এক রাত কম ঘুমালে যে সমস্যা হয়—
১) ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং আপনি বেশি খেতে শুরু করেন।
২) যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন আপনি।
৩) আপনি দেখতে যেমন আপনাকে তার চেয়ে খারাপ দেখায়।
৪) ঠাণ্ডা-সর্দি লাগার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
৫) আপনার মস্তিষ্কের টিস্যু নষ্ট হওয়া শুরু হয়।
৬) আপনি সামান্য কারণে ইমোশোনাল হয়ে যান।
৭) আপনার স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে।

একরাত ঘুম কম হওয়া বা অল্প সময়কাল ধরে ঘুম কম হওয়ার সমস্যাটি পরে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এটি রূপ নিতে পারে নিয়মিত ঘুম কম হওয়া বা ঘুম না হওয়ার সমস্যায়।

প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম না হওয়ার কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর নিয়মিত ঘুম কম হলে আপনার ওজন বেড়ে যেতে থাকে।

নিয়মিত কম ঘুমালে যে সমস্যাগুলি হয়—
১) স্ট্রোক করার ঝুঁকি চারগুণ বেড়ে যায়
২) অবেসিটি রিস্ক বেড়ে যায়। ফলে তাড়াতাড়ি আপনি মোটা হতে থাকেন।
৩) কোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪) ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৫) হৃদরোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
৬) আপনার শরীরে শুক্রাণু কম উৎপন্ন হতে থাকে।
৭) মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness

এই দশটি খাবার ফ্রিজে রাখতে নেই!

খাদ্য

আমাদের মাঝে প্রচলিত একটি সাধারণ বিশ্বাস হলো ঠাণ্ডা আবহাওয়া আমাদের খাদ্য উপাদানগুলোর জন্য নিরাপদ এবং আরো বেশি স্বাস্থ্যকর। কেননা নিচু তাপমাত্রা আমাদের খাদ্যকে নষ্ট করে দিতে পারে এমন সব অণুজীব এবং ব্যাকটেরিয়াকে দমণ করে। আর এই বিশ্বাসের কারণেই আমরা কাঁচা মাংসের মতো খাবার ফ্রিজে রাখি। কিন্তু একই নিয়ম অন্য সব খাবারের বেলায়ও প্রয়োগ করতে গিয়েই আমরা বিপত্তিটা বাঁধাই। বাস্তবে সব খাবারের বেলায়ই এই নিয়মটা প্রযোজ্য নয়। বেশ কিছু খাদ্য বা সবজি আছে যেগুলো ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় রাখলেই ভালো থাকে, আবার এমন কিছু খাদ্য আছে যেগুলো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে হয়। এমন দশটি খাদ্য রয়েছে যেগুলো ফ্রিজে না রেখে বরং স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলেই বেশি ভালো থাকবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী—

১. টমেটো
কাঁচা টমেটো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উচিত। যাতে সেগুলো আরো সুস্বাদু এবং রসালো হয়। চরমভাবাপন্ন তাপমাত্রায় টমেটোর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। পুরোপুরি পেকে গেলে এরপর আপনি টমেটো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ফ্রিজ রাখতে পারবেন। তবে ফ্রিজ থেকে বের করার পর আধা ঘন্টা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে তারপর রান্না করুন।

২. পেঁয়াজ
খোসাযুক্ত পেঁয়াজের বেঁচে থাকার জন্য দরকার হয় আলো-বাতাসের। আপনি যদি ফ্রিজে খোসাসহ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন তাহলে সেগুলো অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পঁচে যেতে পারে। ফলে ফ্রিজে পেঁয়াজ রাখতে গেলে তা সবসময়ই খোসা ছাড়িয়েই রাখবেন। পেঁয়াজ আপনি খোলা জায়গাও রাখতে পারেন কিন্তু তা যেন অবশ্যই সূর্যের আলো থেকে দূরে হয়। এছাড়া ছিদ্রযুক্ত কাগজের ব্যাগেও আপনি পেঁয়াজ রাখতে পারেন।

৩. বাদাম এবং শুকনো ফল
আমাদের অনেকেই বাদাম এবং শুকনো ফল ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন এই আশায় যে এতে সেগুলোর স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হবে না বা পঁচে যাবে না। কিন্তু এতে বরং হিতে বিপরীত হয়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় বরং তাদের স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফ্রিজে থাকা অন্যান্য গন্ধও তাদের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। এরচেয়ে বরং তাদেরকে বায়ুরোধী পাত্রে রেখে খোলা জায়গায় রাখুন।

৪. রসুন
আপনি যদি ফ্রিজে রসুন সংরক্ষণ করেন তাহলে তা থেকে গেঁজ বের হতে শুরু করবে এবং তা রাবারের মতো হয়ে যেতে থাকবে। সুতরাং শুকনো এবং শীতল স্থানে রসুন সংরক্ষণ করুন।

৫. পুদিনা পাতা
আপনি যদি পুদিনা পাতা ফ্রিজে রাখেন তাহলে সেগুলোর স্বাদ এবং গন্ধ নষ্ট হয়ে যাবে। ঠাণ্ডা তাপমাত্রা তাদের সতেজভাব দ্রুত নষ্ট করে এবং শুষ্ক করে তোলে। পুদিনা পাতা সংরক্ষণের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সেগুলোকে পানিভর্তি জারে রাখা এবং সেই জারের মুখ খুলে রাখা।

৬. আলু
আলু কখনো ফ্রিজে রাখার দরকার নেই। শুধু ছিদ্রযুক্ত রেখে সংরক্ষণ করুন। ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় রাখলে আলুতে থাকা শ্বেতসার সব সুগারে রুপান্তরিত হয়। ফলে রান্নার সময় আলুর রঙ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতরাং আলো থেকে দূরে এবং না ধুয়েই আলু সংরক্ষণ করুন। আর্দ্রতা আলুকে দ্রুত নষ্ট করে।

৭. মধু
মধু কখনোই ফ্রিজে সংরক্ষণ করার দরকার নেই। ফ্রিজের বাইরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও মধু খুবই মসৃণ এবং তাজা থাকবে। তবে মধু যে পাত্রে রাখবেন তার মুখটি ভালো ভাবে আটকে রাখুন। প্রকৃতপক্ষে, মধু ফ্রিজে রাখলে তা জমে যেতে পারে।

৮. অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল বা যে কোনো ধরনের রান্নার তেল ফ্রিজে রাখবেন না। এতে সেগুলো জমে যেতে পারে এবং মাখনের মতো শক্ত রুপ ধারন করতে পারে। নারকেল তেলের বেলায়ও একথা সত্য। আপনার কিচেন ক্যাবিনেটের কোনো শীতল জায়গায় এগুলো সংরক্ষণ করুন কিন্তু তাপ থেকে অবশ্যই দূরে রাখবেন।

৯. তরমুজ
জার্নাল অফ অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ বা খরমুজ ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় রাখলে এর পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় তরমুজের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদানগুলো সব নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খোলা জায়গায় ফলের যারকে সংরক্ষণ করলেই বেশি ভালো থাকবে।

১০. রুটি
আপনি হয়তো এতদিন ফ্রিজেই সংরক্ষণ করে আসছিলেন রুটি। কিন্তু সময় এসেছে পরিবর্তনের। ফ্রিজে রুটি রাখলে তা শক্ত এবং রাবারের মতো হয়ে যেতে পারে। আর তাছাড়া ঠাণ্ডা এবং আর্দ্র তাপমাত্রা রুটি আরো দ্রুত বাসি হয়ে পড়তে পারে।
সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

ভালো থাকুন | School of Awareness

প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারে সতর্কতামূলক তথ্যাদি, এখনই জেনে নিন!


বোতলের তলায় ত্রিকোণ চিহ্নটা কখনও খেয়াল করেছেন, জানেন কি এর অর্থ?
ঘরে বাইরে এখন প্লাস্টিকের প্লেট, বোতলের ছড়াছড়ি। খাবার রাখা থেকে পানি রাখা— সবকিছুতেই এই প্লাস্টিক বোতল। কিন্তু, কখনও আমরা কেউ খেয়াল করি না প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে থাকা চিহ্নগুলিকে।
পড়ে গেলে চট করে ফেটে যায় না। বোতল পরিষ্কার করাও সোজা। ব্যবহারের এমন সোজা-সাপটা সুবিধায় প্লাস্টিকের বোতলের চল বাড়তে বাড়তে এখন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু, আমরা না বুঝেই দিনের পর দিন এই সব প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে থাকি। অনেকে তো বাচ্চার দুধ ভর্তি প্লাস্টিকের ফিডিং বোতলটাই গরম করে বসেন। প্লাস্টিক বোতলের এমন যথেচ্ছা ব্যবহার আসলেও কি স্বাস্থ্যকর? এ বিষয়ে বাছ-বিচার করি না আমরা। তাই প্লাস্টিক বোতলের তলায় থাকা ত্রিকোণ চিহ্নের মানেটা বুঝে নিলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে নিমেষে।

Plastic Bottle Symbols:-
১. ত্রিকোণ চিহ্ন— এটা আসলে প্লাস্টিক বোতলের চারিত্রিক ইনডেক্স। এই চিহ্নটা থাকলে বোঝা যায় বোতলটি বিধিসম্মতভাবে তৈরি। কিন্তু, বোতলটা ব্যবহারের কতটা নির্ভরযোগ্য বা কী ধরনের জিনিস তাতে রাখা যাবে, তা ত্রিকোণ চিহ্নের মধ্যে থাকা সংখ্যা দ্বারা বোঝা যায়।
২. ত্রিকোণের মাঝে ১ সংখ্যা থাকলে— এর মানে বোতলটি একবারই মাত্র ব্যবহার করা যাবে এবং বোতলটিতে পলিথিলিন টেরেপথ্যালেট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের বোতল বহুব্যবহারে স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক।
৩. ত্রিকোণের মধ্যে ২ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক বোতলে ঘন পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের বোতল ব্যবহার হয়।
৪. ত্রিকোণের মধ্যে ৩ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের বোতল বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, এই বোতল তৈরি হয় ‘পোলিভিনিল ক্লোরাইড’ বা ‘পিভিসি’ থেকে। এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ‘পিনাট বাটার’ রাখতে এই বোতল ব্যবহার করা হয়।
৫. ত্রিকোণের মধ্যে ৪ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক বহু ব্যবহারের উপযোগী। বিশেষ করে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে এই চিহ্ন প্রচুর দেখা যায়। খুব দামি বোতলে এই চিহ্ন থাকে।
৬. ত্রিকোণের মধ্যে ৫ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক একদম নিরাপদ এবং ব্যবহারেরযোগ্য। আইক্রিম কাপ বা সিরাপের বোতল অথবা খাবারের কন্টেনারে এই ধরনের চিহ্ন দেখা যায়।
৭. ত্রিকোণের মধ্যে ৬ অথবা ৭ সংখ্যা থাকলে— প্লাস্টিকের রেড কার্ড বলা হয় একে। এই ধরনের প্লাস্টিক মারাত্মক রকমের ক্ষতিকারক। কারণ এই ধরনের প্লাস্টিক তৈরি হয় পলিস্টিরিন এবং পলিকার্বনেট বিসপেনল-এ। এটা মানুষের মধ্যে হরমোন সমস্যা তৈরি করে। ক্রমাগত এই ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়।
(সংগৃহীত)

ভালো থাকুন | School of Awareness